আন্তর্জাকি কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)। শ্রীমহাপ্রভুর শিক্ষা অনুসারে আচার ও প্রচার কার্য করছে। তাতে অংশ গ্রহণ করে আমাদের পারমার্থিক উন্নতি সাধন করার জন্য ইস্কন-এ আশ্রয় নেওয়া কর্তব্য।
আরও পড়ুন ...
ইসকন (ISKCON) বা 'আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ' (International Society for Krishna Consciousness) হলো ১৯৬৬ সালে শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রতিষ্ঠিত একটি আধ্যাত্মিক সংগঠন। এটি মূলত ৫০০০ বছরের প্রাচীন গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত, যা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা অনুসরণ করে।
ইসকন কী?
সহজ কথায়, ইসকন হলো এমন একটি বিশ্বজনীন পরিবার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা মানুষকে তার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য — অর্থাৎ ভগবানের সাথে তার হারানো সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করার পথ দেখায়। এটি কোনো নতুন ধর্ম নয়, বরং এটি প্রাচীন বৈষ্ণব ঐতিহ্যের একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্রকাশ।
এর মূল ভিত্তি হলো —
ভক্তিযোগ: পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সেবা।
সংকীর্তন: হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ ও কীর্তন।
শাস্ত্রীয় শিক্ষা: শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতের যথাযথ প্রচার।
আমরা কেনো ইসকনের আশ্রয় নেবো?
ইসকনের আশ্রয় নেওয়ার গুরুত্ব কেবল ধর্মীয় নয়, এটি একটি উন্নততর জীবনধারার জন্য প্রয়োজনীয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো —
১. সঠিক গুরু-পরম্পরা ও বিশুদ্ধ জ্ঞান
ইসকন একটি স্বীকৃত গুরু-পরম্পরার (ব্রহ্ম-মধ্ব-গৌড়ীয় ধারা) অংশ। এখানে মনগড়া কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয় না; বরং ৫০০০ বছর আগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় যা বলেছেন, তা হুবহু ("যথাযথ") শিক্ষা দেওয়া হয়।
২. জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা ও শুদ্ধতা
ইসকন চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে জীবনযাপন শেখায়, যা মানুষকে পশুর স্তর থেকে মানুষের স্তরে উন্নীত করে:
অহিংসা (নিরামিষ আহার)
শুদ্ধতা (অবৈধ সঙ্গ বর্জন)
সত্যবাদিতা (জুয়া ও নেশা বর্জন)
সংযম (ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ)
৩. আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা
অনেকেই ধর্মকে অন্ধবিশ্বাস মনে করেন। কিন্তু ইসকন আধ্যাত্মিকতাকে একটি বিজ্ঞান হিসেবে উপস্থাপন করে। "আমি কে?", "মৃত্যুর পর কী হয়?"—এই প্রশ্নগুলোর যৌক্তিক সমাধান এখানে পাওয়া যায়। এমনকি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞানীরাও এই দর্শনের যৌক্তিকতায় আকৃষ্ট হন।
৪. সংকীর্তন ও মহামন্ত্রের শক্তি
বর্তমান কলিযুগে মনকে শান্ত রাখার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হলো 'হরে কৃষ্ণ' মহামন্ত্র। ইসকনের আশ্রয়ে থাকলে আপনি সংঘবদ্ধভাবে কীর্তন ও জপের মাধ্যমে মানসিক শান্তি ও পারমার্থিক আনন্দ অনুভব করতে পারেন।
৫. বৈষ্ণব সেবা ও প্রসাদ
ইসকন "প্রসাদম" বা পবিত্র অন্ন বিতরণের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। ভগবানের নিবেদিত এই খাবার গ্রহণ করলে মানুষের চেতনা শুদ্ধ হয়। এছাড়া একটি সুন্দর ভক্ত-সমাজ বা 'কমিউনিটি'র সান্নিধ্য পাওয়া যায়, যা বর্তমান একাকীত্বের যুগে অত্যন্ত জরুরি।
ইসকনের আশ্রয় নেওয়ার অর্থ হলো নিজের জীবনকে অর্থবহ করা। আপনি আপনার বর্তমান পেশা বা জীবনধারা পরিবর্তন না করেও ভক্তিযোগ অনুশীলন করতে পারেন। এটি আপনাকে কেবল ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে না, বরং জন্মের পর জন্ম এই মায়ার জগতে ঘুরে বেড়ানোর হাত থেকে মুক্তি দিয়ে পরমাত্মার কাছে ফিরে যাওয়ার পথ দেখায়।


