ইসকন (ISKCON) কোনো ভৌগোলিক বা জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ কোনো সংগঠন নয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক সংগঠন। তবে এর প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান অবস্থানের মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে যা বোঝা জরুরি —
১. প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট (কেন অনেকে একে আমেরিকার মনে করেন)
ইসকনের যাত্রা শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে, ১৯৬৬ সালের ১৩ জুলাই। এর প্রতিষ্ঠাতা, অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ, তাঁর গুরু মহারাজের নির্দেশ পালন করতে এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের বাণী বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বয়স্ক অবস্থায় পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। যেহেতু এর আনুষ্ঠানিক আইনি নিবন্ধন এবং শুরুর কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছিল, তাই অনেকে একে আমেরিকার সংগঠন বলে মনে করেন।
২. মূল ও দর্শন (মূলত ভারতীয়)
ইসকন মূলত প্রাচীন গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্যের একটি অংশ, যার উৎস ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বৃন্দাবন। এর দর্শন, শাস্ত্রীয় শিক্ষা (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবতম) এবং আচার-অনুষ্ঠান—সবই ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃতির গভীর শিকড় থেকে এসেছে। তাই আদর্শগত দিক থেকে এটি একটি ভারতীয় আধ্যাত্মিক ধারার প্রতিনিধি।
৩. আন্তর্জাতিক চরিত্র
বর্তমানে ইসকন বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে সক্রিয়। এর প্রশাসনিক ও আধ্যাত্মিক সদর দপ্তর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরে অবস্থিত। এর সদস্য বা ভক্তরা বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিক হতে পারেন। তাদের কার্যক্রম এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হওয়ায় এটি কোনো একক দেশের সংগঠন নয়, বরং একটি বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
ইসকন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার আদর্শ ভারতীয় এবং যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা ভূখণ্ডের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়।


