ইসকন (ISKCON) বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সামাজিক, আধ্যাত্মিক এবং সাংগঠনিক কারণ রয়েছে:
১. সার্বজনীন ও সহজ বার্তা
ইসকন জাতি, বর্ণ বা মূল ধর্ম পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঈশ্বরের প্রতি প্রেম ও ভক্তির কথা বলে। "হরে কৃষ্ণ" মহামন্ত্র জপ এবং ভক্তিযোগের চর্চা সহজ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ এটি সহজে গ্রহণ করতে পারে।
২. প্রতিষ্ঠাতা শ্রীলা প্রভুপাদের অবদান ও দূরদর্শিতা
১৯৬৬ সালে নিউ ইয়র্কে এসি ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রাচ্যের বৈদিক দর্শনকে প্রাচ্যের ও প্রাশ্চাত্যের মানুষের বোধগম্য ভাষায় তুলে ধরেন এবং বিশ্বজুড়ে অসংখ্য গ্রন্থ অনুবাদ ও বিতরণ করেন।
৩. মানসিক শান্তি ও সুশৃঙ্খল জীবনধারা
আধুনিক বস্তুবাদী জীবন ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই আধ্যাত্মিক শান্তির সন্ধান করেন। ইসকনের নিরামিষ আহার, মাদক বর্জন এবং সুশৃঙ্খল দৈনন্দিন নিয়মাবলি মানুষের মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থ জীবনযাপনে সাহায্য করে।
৪. সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ
বিশ্বজুড়ে তাদের মন্দিরগুলোতে আয়োজিত রথযাত্রা, সংকীর্তন, প্রাণবন্ত উৎসব এবং প্রসাদ বিতরণ সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করে। মন্দিরগুলোর উন্মুক্ত ও স্বাগত জানানো পরিবেশ দর্শনার্থীদের মাঝে আপ্যায়নের বার্তা দেয়।
৫. মানবসেবা ও সামাজিক কাজ
'ফুড ফর লাইফ' (Food for Life)-এর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ ও চরম দারিদ্র্যের সময় কোটি কোটি মানুষের মাঝে নিখরচায় নিরামিষ খাদ্য বিতরণ করে থাকে। এই বৈশ্বিক মানবসেবামূলক কাজ ইসকনকে আলাদা সুনাম এনে দিয়েছে।


