বিখ্যাত ব্রিটিশ ব্যান্ড 'দ্য বিটলস'-এর গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসনের সাথে ইসকন (ISKCON - International Society for Krishna Consciousness) এবং এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের অত্যন্ত গভীর ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছিল। মূলত ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে হ্যারিসন এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের সংস্পর্শে আসেন।
নিচে তাদের সম্পর্কের প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
শ্রীল প্রভুপাদের সাথে সাক্ষাৎ: ১৯৬৯ সালে লন্ডনে হ্যারিসন শ্রীল প্রভুপাদের সাথে প্রথম দেখা করেন। তিনি প্রভুপাদের বিনয় এবং দর্শনে গভীরভাবে মুগ্ধ হন। তিনি নিজেকে একজন ভক্ত হিসেবে গড়ে তোলেন এবং নিয়মিত হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতেন।
ভক্তিবেদান্ত ম্যানর দান: হ্যারিসনের সবচেয়ে বড় অবদানগুলোর একটি হলো লন্ডনের কাছে একটি বিশাল প্রাসাদোপম বাগানবাড়ি (Country Estate) ক্রয় করে ইসকনকে দান করা। এটি বর্তমানে 'ভক্তিবেদান্ত ম্যানর' নামে পরিচিত এবং ইউরোপের অন্যতম প্রধান হিন্দু মন্দির ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।
সংগীতে কৃষ্ণভক্তি: হ্যারিসন তাঁর বিশ্ববিখ্যাত গান "My Sweet Lord"-এ হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করেন। গানটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায় এবং সাধারণ মানুষের কাছে এই মন্ত্রটি পরিচিত করে তোলে। এছাড়া ১৯৭০ সালে তিনি লন্ডনের রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের ভক্তদের নিয়ে একটি গানের অ্যালবাম তৈরি ও প্রযোজনা করেছিলেন।
পুস্তক প্রকাশে আর্থিক সহায়তা: শ্রীল প্রভুপাদের বিখ্যাত গ্রন্থ "Krsna: The Supreme Personality of Godhead" (কৃষ্ণ: পরমেশ্বর ভগবান) ছাপানোর জন্য হ্যারিসন সেই সময়ে ১৯,০০০ মার্কিন ডলার দান করেছিলেন। এই বইটির ভূমিকায় তিনি একটি সুন্দর মুখবন্ধও লিখেছিলেন।
শেষ ইচ্ছা ও ভস্ম বিসর্জন: ২০০১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর হ্যারিসনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী হিন্দু রীতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় এবং তাঁর চিতাভস্ম ভারতের পবিত্র গঙ্গা ও যমুনা নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।
জর্জ হ্যারিসন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্দিরে যোগ না দিলেও তিনি আজীবন নিজেকে কৃষ্ণভক্ত হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং ইসকনের অন্যতম প্রধান শুভাকাঙ্ক্ষী ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।


