হিন্দু ধর্মে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবকে একত্রে ‘ত্রিমূর্তি’ বা ত্রিদেব বলা হয়। এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় —এই তিন প্রধান প্রক্রিয়ার চালিকাশক্তি হলেন ত্রিদেব।
ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা): ব্রহ্মা হলেন মহাবিশ্ব ও সকল জীবের সৃষ্টিকর্তা। তিনি চতুর্মুখ এবং পদ্মফুলে আসীন অবস্থায় প্রকাশিত হন। বেদের রচয়িতা ও জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে তিনি পূজিত হলেও, হিন্দুধর্মে তাঁর নামে আলাদা দেবালয় বা পূজার প্রচলন অন্যান্য দেবতাদের তুলনায় বেশ কম।
বিষ্ণু (পালনকর্তা): বিষ্ণু হলেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রক্ষক ও পালনকর্তা। জগতে সত্য ও শৃঙ্খলার ভারসাম্য রক্ষা করতে তিনি যুগে যুগে অবতীর্ণ হন (যেমন শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণ অবতার)। শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্মধারী চার হাত বিশিষ্ট এই দেবতাকে শ্রীহরি নামেও ডাকা হয়।
শিব (সংহারকর্তা): শিব হলেন সৃষ্টিচক্র সম্পন্ন করার জন্য ধ্বংস ও রূপান্তরের দেবতা। ধ্বংসের মাধ্যমে তিনি নতুন সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত করেন। জটাধারী, কপালে তৃতীয় নয়ন ও হাতে ত্রিশূল নিয়ে বাঘের চামড়া পরিহিত এই দেবতাকে 'মহাদেব' ও 'যোগেশ্বর' হিসেবেও উপাসনা করা হয়।
তাই বলা যায়, ব্রহ্মা জগৎ সৃষ্টি করেন, বিষ্ণু তা পালন ও রক্ষা করেন, এবং দেবাদিদেব মহাদেব শিব তা সংহার করে নতুন সৃষ্টির সূচনা করেন।


