ব্রহ্ম কি?
1 answers
15 views
Uzzwal Dhali
+1
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

꧁◼️প্রশ্ন:৮ ব্রহ্ম কি? (৮/১-২) ◼️

****শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – অষ্টম অধ্যায় – অক্ষরব্রহ্মযোগ*****

|অর্জুন উবাচ |

❝ কিং তদ্-ব্রহ্ম কিং অধ্যাত্মাং কিং কর্ম পুরুষোত্তম।
অধিভুতং চ কিং প্রোক্তম্‌-অধিদৈবং কিং উচ্যতে॥ ❞

━┉┈┈(ভগবদ্গী‌তা, ৮/১)

অনুবাদ: “অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন━ হে পুরুষোত্তম! ব্রহ্ম কি? অধ্যাত্ম কি? কর্ম কি? অধিভুত ও অধিদৈবই বা কাকে বলে? অনুগ্রহপূর্বক আমাকে স্পষ্ট করে বল।

❝ অধিযজ্ঞঃ কথং কোহত্র দেহে-অস্মিন্-মধুসূদন।
প্রয়াণকালে চ কথং জ্ঞেয়ঃ-অসি নিয়তাত্মভিঃ॥ ❞

━┉┈┈(ভগবদ্গী‌তা, ৮/২)

অনুবাদ: “হে মধুসূদন! এই দেহে অধিযজ্ঞ কে, এবং এই দেহের মধ্যে তিনি কীরূপে অবস্থিত? মৃত্যুকালে জিতেন্দ্রিয় ব্যক্তিরা কীভাবে তোমাকে জানতে পারেন?

|শ্রীভগবানুবাচ|

❝ অক্ষরং ব্রহ্ম পরমং স্বভাবঃ-অধ্যাত্মম্-উচ্যতে ।
ভূতভাবোদ্ভবকরো বিসর্গঃ কর্মসংজ্ঞিতঃ॥৩॥❞

অনুবাদ: “পরমেশ্বর ভগবান বললেন— নিত্য বিনাশহীন জীবকে বলা হয় ব্রহ্ম এবং তার নিত্য স্বভাবকে বলে অধ্যাত্ম। এই জীবেদের (ভূতগণের) উৎপত্তি ও বৃদ্ধি নিয়ে সংসারই (যেখানে নানা যজ্ঞাদি সম্পন্ন হয়) হল কর্ম।

আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: — ব্রহ্ম বলতে জীবকে বোঝায় এবং পরব্রহ্ম বলতে পরমেশ্বর ভগবানকে বোঝায়। পরব্রহ্মের (ভগবানের) অনুসদৃশ অংশ হল ব্রহ্ম (জীব)। জড় চেতনায় জীব সর্বদা জড়ের উপর আধিপত্য করতে চায়, কিন্তু পারমার্থিক চেতনায়, জীব কৃষ্ণভাবনামৃত হয়ে ভগবানের সেবা করতে চায়। জড় প্রকৃতিতে জীব তার কর্ম অনুসারে চুরাশি লক্ষ যোনীর বিভিন্ন দেহের যে কোনও একটি দেহপ্রাপ্ত হয় যেমন, মানুষ, পশু, পাখি প্রভৃতি। মৃত্যুর পর স্বর্গলোকে নানা রকম সুখস্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করার জন্য সে কখনও কখনও যাগযজ্ঞের অনুষ্ঠান করে, কিন্তু তার সেই পুণ্যকর্মফলগুলি যখন শেষ হয়ে যায়, তখন সে এই পৃথিবীতে পতিত হয়ে আবার মনুষ্যদেহ ধারণ করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় কর্ম । এই প্রক্রিয়াটি হল – 

জীবের যখন অর্জিত পুণ্যকর্মফল শেষ হয়ে যায়, তখন তার জীবাত্মা বৃষ্টির মাধ্যমে এই পৃথিবীতে পতিত হয়; তারপর সে শস্যকণায় পরিণত হয়। মানুষ সেই শস্য আহার করে এবং তা বীর্যে পরিণত হয়, তারপর সেই বীর্য নারীকে গর্ভবতী করে। এভাবেই জীবাত্মা আবার মনুষ্যদেহ প্রাপ্ত হয়ে যাগযজ্ঞের অনুষ্ঠানপূর্বক একই ক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করে। এভাবেই জীব প্রতিনিয়ত এই জড় জগতে গমনাগমন করতে থাকে।

কৃষ্ণভাবনাময় ভগবদ্ভক্ত অবশ্য এই ধরনের যজ্ঞানুষ্ঠান পরিহার করেন। তিনি সরাসরিভাবে কৃষ্ণভাবনাময় ভগবদ্ভক্তির পন্থা অবলম্বন করেন এবং ভগবতধামে অর্থাৎ ভগবানের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন।

❝ অধিভুতং ক্ষরো ভাবঃ পুরুষশ্চ-অধিদৈবতম্।
অধিযজ্ঞঃ-অহম্-এব-অত্র দেহে দেহভৃতাং বর॥৪॥ ❞

অনুবাদ: “হে নরশ্রেষ্ঠ! সমস্ত নশ্বর পদার্থ (জড়া প্রকৃতি) হল অধিভূত। সূর্য, চন্দ্র আদি সমস্ত দেবতাদের সমষ্টিরূপ বিরাট পুরুষ হল অধিদৈব এবং বিষ্ণুর অংশসম্ভূত সমস্ত দেহে অন্তর্গত অন্তর্যামীরূপে আমিই অধিযজ্ঞ ।

❝ অন্তকালে চ মামেব স্মরন্-মুক্তা কলেবরম্।
যঃ প্রয়াতি স মদ্ভাবং যাতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ॥৫॥ ❞

অনুবাদ: “মৃত্যুর সময়ে যিনি আমাকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি তৎক্ষণাৎ আমার ভাবই প্রাপ্ত হন। এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ৷

❝ যং যং বা-অপি স্মরন্ ভাবং ত্যজত্যন্তে কলেবরম্।
তং তং-এব-এতি কৌন্তেয় সদা তদ্ভাবভাবিতঃ॥৬॥ ❞

অনুবাদ: “অন্তিমকালে যিনি যে ভাব স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি সেই ভাবে ভাবিত তত্ত্বকেই লাভ করেন।

❝ তস্মাৎ সর্বেষু কালেষু মামনুষ্মর যুধ্য চ।
ময়ি-অর্পিতমনোবুদ্ধিঃ-মাম্‌-এব-এষ্যসি-অসংশয়ম্॥৭॥ ❞

অনুবাদ: “অতএব হে অর্জুন ! তুমি সর্বদা আমাকে স্মরণ করে তোমার স্বভাব বিহিত যুদ্ধ করো ৷ আমাতে মন ও বুদ্ধি অর্পণ করলে তুমি আমাকেই লাভ করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। 

❝ অভ্যাসযোগযুক্তেন চেতসা ন-অন্যগামিনা।
পরমং পুরুষং দিব্যং যাতি পার্থ-অনুচিন্তয়ন্॥৮॥ ❞

অনুবাদ: “হে পার্থ! অভ্যাস যোগে যুক্ত হয়ে অনন্যগামী (একাগ্র) চিত্তে যিনি অনুক্ষণ (নিরন্তর) পরম পুরুষের (পরমেশ্বরের) চিন্তা করেন, তিনি অবশ্যই তাঁকেই লাভ করেন।