হিন্দু শাস্ত্র মতে ব্রহ্মা হচ্ছেন এই ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা দেবতা। তিনি ত্রিদেবের (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব) একজন —
ব্রহ্মা: সৃষ্টি করেন
বিষ্ণু: পালন করেন
শিব: সংহার করেন
তবে ব্রহ্মা সর্বোচ্চ ঈশ্বর নন; তিনি স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর আজ্ঞায় ও শক্তিতে সৃষ্টি কার্য সম্পাদন করেন।
📜 জন্ম ও পরিচয়
ব্রহ্মা ভগবান বিষ্ণুর নাভি থেকে উদ্ভূত পদ্মফুল থেকে জন্মগ্রহণ করেন, তাই তাঁকে পদ্মযোনি বা অজন্মাও বলা হয়।
তাঁর চারটি মুখ আছে, যেখান থেকে চারটি বেদ প্রকাশিত হয়েছে বলে বলা হয়।
তিনি সর্বপ্রথম জীব, যিনি শূন্য ব্রহ্মাণ্ডে জাগ্রত হয়ে সৃষ্টির কাজ শুরু করেন।
🌸 ব্রহ্মার কাজ
সমস্ত গ্রহ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও জীবজগতের প্রাথমিক রূপ সৃষ্টি।
মনের সৃষ্টি, ভাষা, বেদ ও শাস্ত্র প্রচার।
বিভিন্ন প্রজাপতি (মানব ও অন্যান্য জীবের আদি পিতা) সৃষ্টি করা।
📖 শাস্ত্রীয় উল্লেখ
শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ (৩.৮.১৬):
পদ্মসম্ভূত ব্রহ্মা ভগবান নারায়ণের নির্দেশে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেন।
শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতা - চতুর্দশ অধ্যায় ৩ নং শ্লোক
শ্রীভগবান উবাচ —
মম যোনির্মহদ্ ব্রহ্ম তস্মিন্ গর্ভং দধাম্যহম্ ।
সম্ভবঃ সর্বভূতানাং ততো ভবতি ভারত ।।
অনুবাদঃ শ্রীভগবান বলিলেন— হে ভারত (অর্জুন), এই ভৌতিক প্রকৃতি আমার গর্ভধারণের স্থানস্বরূপ। আমি তাতে জীবাত্মাদের গর্ভ প্রদান করি এবং, হে কুন্তীপুত্র, সেখান হইতে সমস্ত জীবের উৎপত্তি হয়।
— এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ
শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতা - চতুর্দশ অধ্যায় ৪ নং শ্লোক
সর্বযোনিষু কৌন্তেয় মূর্তয়ঃ সম্মভন্তি যাঃ ।
তাসাং ব্রহ্ম মহদ্ যোনির্ অহং বীজপ্রদঃ পিতা ।।
— এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদঅনুবাদঃ হে কৌন্তেয়, সমস্ত জীব যেসব প্রকার দেহে জন্মগ্রহণ করে, সেই সমস্ত যোনির জননী এই ভৌতিক প্রকৃতি, আর আমি বীজ প্রদানকারী পিতা।
🕉 গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
প্রতিটি ব্রহ্মাণ্ডের জন্য একজন আলাদা ব্রহ্মা আছেন। অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ডে অসংখ্য ব্রহ্মা কাজ করছেন।
তাঁর আয়ু অত্যন্ত দীর্ঘ — এক ব্রহ্মা-দিন = ৪,৩২০,০০০,০০০ মানব বছর!
ব্রহ্মা ভক্তি ও তপস্যার দ্বারা মুক্তি লাভ করেন এবং লীলা শেষে ভগবানের ধামে প্রত্যাবর্তন করেন।


