সনাতন ধর্মে অবতারের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন গণনা পাওয়া যায়। তবে প্রধান প্রামাণিক শাস্ত্র অনুসারে অবতারের মোট সংখ্যাকে মূলত তিনটি প্রধান ভাগে উল্লেখ করা হয়েছে —
১. দশাবতার (প্রধান ১০টি অবতার)
সাধারণ মানুষের মধ্যে অবতারের এই গণনাটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও প্রচলিত। মৎস্য পুরাণ, অগ্নি পুরাণ এবং কবি জয়দেবের 'গীতগোবিন্দম্'-এ এই ১০ জন প্রধান অবতারের উল্লেখ রয়েছে।
তাঁরা হলেন —
১. মৎস্য, ২. কূর্ম, ৩. বরাহ, ৪. নৃসিংহ, ৫. বামন, ৬. পরশুরাম, ৭. শ্রীরাম, ৮. বলরাম (বা শ্রীকৃষ্ণ), ৯. বুদ্ধ এবং ১০. কল্কি (যিনি কলিযুগের শেষে আসবেন)।
২. চব্বিশ অবতার (২৪টি অবতার)
শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণের প্রথম স্কন্ধের তৃতীয় অধ্যায়ে এবং দ্বিতীয় স্কন্ধের সপ্তম অধ্যায়ে পরমেশ্বর ভগবানের ২৪ জন প্রধান অবতারের বিশদ তালিকা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় দশাবতারের পাশাপাশি সনৎকুমারগণ, নারদ, দত্তাত্রেয়, কপিলদেব, ঋষভদেব, ধন্বন্তরি, মোহিনী মূর্তি এবং ব্যাসদেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবতারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৩. অনন্ত অবতার (অসংখ্য)
শ্রীমদ্ভাগবতে (১/৩/২৬) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ভগবানের অবতারের সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে গণনাতীত বা অসীম —
অসংখ্য অবতারাহ্য হরেঃ সত্ত্বনিধের্দ্বিজাঃ।
যথাবিদাসিনঃ কুল্যাঃ সরসঃ স্যুঃ সহস্রশঃ॥
অর্থাৎ, একটি অক্ষয় জলাশয় বা হ্রদ থেকে যেমন হাজার হাজার ছোট ছোট জলধারা নির্গত হয়, ঠিক তেমনি পরমেশ্বর ভগবানের অবতারের সংখ্যাও অসংখ্য বা অনন্ত।
তাই বলা যায়, শাস্ত্রে স্থূল বা প্রধান অবতার হিসেবে ১০ জন এবং লীলা ও কার্যভেদে ২৪ জন অবতারের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হলেও, তত্ত্বগতভাবে ভগবানের অবতারের সংখ্যা অনন্ত বা অসংখ্য।


