সনাতন ধর্মে বা হিন্দু শাস্ত্রে বিভিন্ন প্রসঙ্গে সতীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল প্রচলিত হলো 'পঞ্চকন্যা' বা পাঁচজন পরম সতী নারীর নাম। শাস্ত্রানুসারে তাঁদের স্মরণ করলে পাপ বিনাশ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
১. পঞ্চকন্যা (প্রধান পাঁচ সতী)
সংস্কৃত শ্লোকে এই পাঁচজন মহীয়সী নারীর উল্লেখ পাওয়া যায়:
"অহল্যা দ্রৌপদী কুন্তী তারা মন্দোদরী তথা।
পঞ্চকন্যাঃ স্মরেন্নিত্যং মহাপাতকনাশনম্।।"
অর্থাৎ— অহল্যা, দ্রৌপদী, কুন্তী, তারা এবং মন্দোদরী—এই পাঁচজনকে প্রতিদিন স্মরণ করলে সকল মহাপাপ ধুয়ে যায়। মজার বিষয় হলো, এখানে 'কন্যা' শব্দটি তাঁদের চিরন্তন পবিত্রতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
২. পতিব্রতা সতী (তিন প্রধান)
অনেক ক্ষেত্রে পতিব্রতা ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে আরও তিনজনের নাম বিশেষভাবে নেওয়া হয়:
মাতা সীতা: ভগবান রামচন্দ্রের পত্নী, যাঁর ধৈর্যের কথা আপনি আগেই জেনেছেন।
সতী সাবিত্রী: যিনি নিজের নিষ্ঠা ও সতীত্বের জোরে যমরাজের হাত থেকে স্বামী সত্যবানের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন।
সতী অনসূয়া: মহর্ষি অত্রির পত্নী, যাঁর সতীত্বের মহিমায় ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর শিশু রূপ ধারণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
৩. দক্ষ কন্যা সতী
মূল 'সতী' শব্দটি এসেছে দক্ষ প্রজাপতির কন্যা ও মহাদেবের পত্নী দেবী সতীর নাম থেকে। পতির অপমানে তিনি যজ্ঞের আগুনে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন, যা থেকে পরবর্তীতে 'সতীদাহ' বা সতীত্বের ধারণার ব্যাপক বিস্তার ঘটে।
৪. অষ্টসতী বা অন্যান্য
বিভিন্ন পুরাণভেদে আরও অনেক সতী নারীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যেমন: দময়ন্তী, শৈব্যা, অরুন্ধতী এবং গান্ধারী।
এক কথায় বলতে গেলে, শাস্ত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বেঁধে দেওয়া না হলেও পঞ্চকন্যা এবং সীতা-সাবিত্রী-অনসূয়া এই নামগুলোকেই সবচেয়ে আদর্শ মনে করা হয়।
এই সতী কাহিনীগুলোর মধ্যে আপনার কি বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট চরিত্র (যেমন সাবিত্রী বা দময়ন্তী) সম্পর্কে জানার আগ্রহ আছে?


