সনাতন ধর্ম বা শাস্ত্রানুসারে পাপকে সাধারণত তার ভয়াবহতা এবং উৎস অনুযায়ী কয়েকটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। মূলত মানুষের কর্ম, চিন্তা এবং আচরণের ওপর ভিত্তি করে এই বিভাজন করা হয়।
শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পাপের প্রধান প্রকারভেদগুলো নিচে সহজভাবে আলোচনা করা হলো:....
১. পঞ্চ মহাপাপ (সবচেয়ে গুরুতর)
শাস্ত্র মতে পাঁচটি পাপকে 'মহাপাপ' বলা হয়, যার ফল অত্যন্ত ভয়াবহ। এগুলো হলো:
ব্রহ্মহত্যা: কোনো জ্ঞানী বা নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা।
সুরাপান: নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন বা মদ্যপান।
স্বর্ণচৌর্য: অন্যের সম্পদ বা মূল্যবান বস্তু চুরি করা।
গুরুপত্নী গমন: গুরুজন বা পবিত্র সম্পর্কের অবমাননা।
সংসর্গ: উপরের চার প্রকার পাপীর সাথে জেনে-বুঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা বা তাদের পাপে সহায়তা করা।
২. অতিপাপ
মহাপাপের চেয়েও জঘন্য কিছু কর্মকে অতিপাপ বলা হয়। যেমন— নিকটাত্মীয় বা অতি পবিত্র সম্পর্কের সাথে ব্যভিচার করা।
৩. উপপাতক (তুলনামূলক ছোট পাপ)
মহাপাপের তুলনায় এগুলো কিছুটা কম গুরুতর মনে হলেও পরকালে এর কঠিন ফল ভোগ করতে হয়। যেমন:
গোহত্যা বা নিরপরাধ প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া।
বেদ বা শাস্ত্রের নিন্দা করা।
ঋণ শোধ না করা।
মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।
পিতা-মাতার সেবা না করা।
৪. কাজের উৎস অনুযায়ী পাপের শ্রেণিবিভাগ
মনুস্মৃতি ও অন্যান্য শাস্ত্র অনুযায়ী মানুষ তিনভাবে পাপ করতে পারে। এই বিভাজনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ:
পাপের ধরনব্যাখ্যাউদাহরণকায়িক পাপশরীরের মাধ্যমে করা পাপ।চুরি, হিংসা বা শারীরিক আঘাত করা।বাচনিক পাপকথার মাধ্যমে করা পাপ।গালি দেওয়া, মিথ্যা বলা বা পরনিন্দা।মানসিক পাপমনের অশুভ চিন্তার মাধ্যমে করা পাপ।অন্যের অনিষ্ট চিন্তা করা বা লোভ করা।
Export to Sheets
৫. প্রারব্ধ ও সঞ্চিত পাপ (কর্মফল অনুযায়ী)
দার্শনিক দিক থেকে পাপকে আরও দুটি ভাগে দেখা হয়:
সঞ্চিত পাপ: যা আমরা অতীত জন্ম থেকে আমলনামায় জমা করে এনেছি।
প্রারব্ধ পাপ: যে পাপের ফল আমরা বর্তমানে ভোগ করছি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে, কাম, ক্রোধ এবং লোভ—এই তিনটি হলো নরকের দ্বার। অর্থাৎ এই তিনটির বশবর্তী হয়েই মানুষ মূলত সব প্রকার পাপে লিপ্ত হয়।


