বাংলাদেশে প্রাণী কল্যাণ আইন হলো ২০১৯ সালে প্রণীত একটি আধুনিক আইন, যা ১৯২০ সালের পুরনো আইন বাতিল করে কার্যকর করা হয়েছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ, সদয় আচরণ এবং দায়িত্বশীল প্রতিপালন নিশ্চিত করা। এর আওতায় গৃহপালিত, পোষা এবং পথপ্রাণীর প্রতি যেকোনো অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুর আচরণ (যেমন- প্রহার, অনাহার, অতিরিক্ত কাজ, বা হত্যার চেষ্টা) দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯-এর মূল বিধানসমূহ -
সংজ্ঞাঃ মানুষ ও মাছ ব্যতীত প্রায় সব ধরনের স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ ও জলজ প্রাণীকে এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধঃ প্রাণীকে অকারণে আঘাত, প্রহার, জখম, বা মালিকবিহীন প্রাণী নিধন বা অপসারণ করা নিষেধ।
দায়িত্বঃ কোনো প্রাণীর মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীকে প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণ এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য-পানি নিশ্চিত করতে হবে।
শাস্তিঃ প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী, কোনো প্রাণীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা বা নির্যাতন করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
বন্যপ্রাণী সুরক্ষাঃ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী ও পাখির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
পেনাল কোড: দণ্ডবিধির ৪২৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রাণীর ক্ষতি করলে বা হত্যা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে।
কীভাবে অভিযোগ করবেন?
প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার শিকার হলে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন বা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে।


