১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act, 1955) ভারতের হিন্দুদের জন্য বিবাহ, বিচ্ছেদ এবং অন্যান্য বৈবাহিক বিরোধ নিষ্পত্তির একটি প্রধান আইনি কাঠামো। এটি হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সনাতনী হিন্দু ধর্মে বিবাহকে একটি পবিত্র বন্ধন (Sacrament) হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এই আইনের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি পথ উন্মুক্ত করা হয়।
এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহ —
বৈধ বিবাহের শর্তাবলি: আইনের ধারা ৫ (Section 5) অনুযায়ী, বিবাহের সময় উভয় পক্ষের কোনো জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকতে পারবে না (একপত্নী নীতি)। পাত্রের বয়স কমপক্ষে ২১ এবং পাত্রীর বয়স ১৮ বছর হতে হবে।
বিবাহ বিচ্ছেদ (Divorce): আইনের ধারা ১৩ (Section 13)-এর আওতায় স্বামী বা স্ত্রী উভয়েই বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যভিচার (Adultery), সঙ্গীকে পরিত্যাগ করা (Desertion), ধর্মান্তরিত হওয়া, মানসিক বা শারীরিক অত্যাচার এবং জটিল কোনো রোগ।
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার (Restitution of Conjugal rights): আইনের ধারা ৯ (Section 9) অনুযায়ী, কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রী একে অপরের সঙ্গ ত্যাগ করলে, ভুক্তভোগী পক্ষ আদালতে দাম্পত্য অধিকার ফিরে পাওয়ার আবেদন করতে পারেন।
বৈবাহিক সম্পর্কে পৃথকীকরণ (Judicial Separation): বিবাহ বিচ্ছেদের পরিবর্তে স্বামী-স্ত্রীকে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক করার বা আলাদা থাকার সুযোগ দেওয়া হয় এই আইনের মাধ্যমে।
প্রযোজ্যতা: আইনের ধারা ২ (Section 2) অনুযায়ী, এই আইনটি ভারতের যেকোনো স্থানে বসবাসকারী হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য। তবে ভারতে তফসিলি উপজাতিদের (Scheduled Tribes) ক্ষেত্রে এটি সাধারণত প্রযোজ্য হয় না।


