বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ প্রধানত শাস্ত্রীয় প্রথা ও রীতিনীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তবে দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার জন্য ২০১২ সালে প্রণীত হয় হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২। এই আইনে বিবাহের নিবন্ধন ঐচ্ছিক বা বাধ্যতামূলক নয়, তবে বিবাহ বিচ্ছেদ ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে নিবন্ধন করা অত্যন্ত সুবিধাজনক।
বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ ও এর আইনি দিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো —
১. বিবাহ নিবন্ধন (Registration):
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২: অনুযায়ী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিয়ের নিবন্ধন ঐচ্ছিক। তবে দাম্পত্য বিরোধ, উত্তরাধিকার ও আইনি সুরক্ষা পেতে বিবাহ নিবন্ধন করা যায়।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া: ২০১৩ সালের বিধিমালা অনুযায়ী, বিয়ের পর বর ও কনের যৌথ স্বাক্ষরে বিবাহের নিবন্ধন করা যায়।
ফি: বিবাহ নিবন্ধনের ফি ১,০০০ (এক হাজার) টাকা এবং এটি বর পক্ষকে পরিশোধ করতে হয়।
২. বিবাহ বিচ্ছেদ (Divorce) ও পৃথক বসবাস:
সনাতন হিন্দু ধর্মে বিবাহকে একটি পবিত্র ও অবিচ্ছেদ্য ধর্মীয় বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু আইনে সরাসরি বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের কোনো সুনির্দিষ্ট বা বিধিবদ্ধ বিধান নেই।
তবে ১৯৪৬ সালের 'The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act' অনুযায়ী, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে একজন হিন্দু নারী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ আদায় এবং পৃথকভাবে বসবাসের (Separation) জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন।


