পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে গণেশের মস্তক হাতির হওয়ার পেছনে বেশ কিছু জনপ্রিয় বর্ণনা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত গল্পটি শিবপুরাণে বর্ণিত হয়েছে।
১. মা পার্বতীর নির্দেশ ও গণেশের সৃষ্টি
পৌরাণিক কথা অনুযায়ী, দেবী পার্বতী যখন স্নান করতে যাচ্ছিলেন, তখন নিজের গায়ের চন্দন ও সুগন্ধি দিয়ে একটি বালকের মূর্তি নির্মাণ করেন এবং তাতে প্রাণ সঞ্চার করেন। তিনি এই বালককে (গণেশ) নির্দেশ দেন যেন তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ প্রাসাদে প্রবেশ করতে না পারে।
২. মহাদেবের সঙ্গে যুদ্ধ
এমন সময় ভগবান শিব সেখানে উপস্থিত হন এবং ভেতরে যেতে চান। কিন্তু বালক গণেশ তাঁকে বাধা দেন। শিবের অনুচররা তাঁকে সরানোর চেষ্টা করলেও বালকটি অসীম বীরত্বে সবাইকে পরাজিত করেন। অবশেষে ক্রুদ্ধ হয়ে মহাদেব তাঁর ত্রিশূল দিয়ে বালকের মস্তক ছিন্ন করেন।
৩. হাতির মস্তক স্থাপন
পার্বতী যখন জানতে পারেন তাঁর পুত্র নিহত হয়েছেন, তখন তিনি প্রচণ্ড রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন এবং সৃষ্টি ধ্বংসের উপক্রম করেন। দেবীর ক্রোধ শান্ত করতে শিব তাঁর অনুচরদের নির্দেশ দেন—"উত্তর দিকে মাথা করে শুয়ে থাকা প্রথম যে প্রাণীটিকে পাবে, তার মাথা কেটে নিয়ে এসো।" শিবের অনুচররা একটি হাতির মস্তক খুঁজে পায় এবং সেটি নিয়ে আসে। শিব সেই মস্তকটি বালকের দেহে যুক্ত করে তাঁকে পুনর্জীবিত করেন।
কেন এই রূপের প্রতীকী অর্থ কী?
আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক দিক থেকে গণেশের এই বিচিত্র রূপের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে:
বিশাল মস্তক: এটি গভীর প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা এবং বিচারশক্তির প্রতীক। একজন সফল মানুষের চিন্তাভাবনা সবসময় প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন।
বড় কান: এটি একজন ভালো শ্রোতা হওয়ার শিক্ষা দেয়। হাতির মতো বড় কান দিয়ে সবার কথা মন দিয়ে শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় শব্দ বর্জন করার প্রতীক।
ছোট চোখ: এটি একাগ্রতা এবং সূক্ষ্ম দৃষ্টির প্রতীক। কোনো কাজের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো দেখার ক্ষমতা।
শুঁড়: এটি অভিযোজন ক্ষমতার প্রতীক। একটি হাতির শুঁড় দিয়ে যেমন ভারী গাছ উপড়ে ফেলা যায়, তেমনই আবার সূক্ষ্ম সুঁচও তোলা যায়। অর্থাৎ জীবনে শক্তি ও কমনীয়তার ভারসাম্য প্রয়োজন।
এই ঘটনার পর থেকেই গণেশকে 'গজানন' বলা হয় এবং ভগবান শিব তাঁকে সকল দেবতার আগে পূজিত হওয়ার বর দান করেন। তাই যেকোনো শুভ কাজের শুরুতে গণেশ বন্দনা করা হয়।


