ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবশ্যই সর্বকর্তা ও সমস্ত সৃষ্টির নিয়ন্তা — তিনি নিজেই গীতায় বলেন -
অহং সর্বস্য প্রভবঃ মতঃ সর্বং প্রবর্ততে
— ভগবদ্গীতা ১০.৮ (১০ম অধ্যায়, ৮নং শ্লোক)
অনুবাদঃ আমি সমস্ত কিছুর উৎস। সব কিছু আমার থেকেই প্রকাশিত হয়।
তবে, পৃথিবীতে এত মত-পথ, মতবাদ বা ধর্ম দেখা যায় — এটা একটাই কারণে: মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি (Free Will) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদের স্বাধীন চিন্তা করার স্বাধীনতা (free will) দিয়েছেন। এটি ভগবানের এক বিরাট কৃপা — কারণ এতে আমরা কৃত্রিমভাবে নয়, স্বেচ্ছায় ভগবানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি।
কিন্তু, এই স্বাধীনতাকে ব্যবহার করে অনেকেই তাঁর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। শাস্ত্র মতে, এই জগতের অধিকাংশ জীবই ঈশ্বরের সেবা না করে নিজেদের ইচ্ছা ও ভোগের পথে চলে যায়। তখনই সৃষ্টি হয়: - ভিন্ন ভিন্ন দার্শনিক মতবাদ - স্বল্প বা বিকৃত আকারের ধর্মপন্থা - মনগড়া দেবতা বা মতাদর্শ বিভ্রান্তি ও বিভক্তি কেন হয়?
শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেন -
"যে যেভাবে আমার শরণ নেয়, আমি তাকে সেইভাবেই পুরস্কৃত করি।"
— গীতা ৪.১১ (চতুর্থ অধ্যায়, ১১ নং শ্লোক)
অর্থাৎ, কেউ যদি প্রকৃত সত্য জানতে চায়, তিনি সঠিক পথ (শুদ্ধ ভক্তি ও গুরুপরম্পরা) পাবেন। আর যারা কেবল পার্থিব সুখ, ক্ষমতা বা নিজের মনমতো ঈশ্বর চাই, তারা বিভ্রান্ত হবে। তাই বিভ্রান্তির মূল কারণ হচ্ছে আত্মপ্রবঞ্চনা এবং আসল সত্যকে গ্রহণ না করার প্রবণতা। প্রকৃত ধর্ম একটি — বাকিগুলো তার বিকৃতি সনাতন ধর্ম বা ভগবানের প্রতি বিশুদ্ধ ভক্তিই প্রকৃত ধর্ম। — "ধর্মং তু সাক্ষাদ্ ভগবৎ-প্রণীতম্" (ভাগবতম ৬.৩.১৯) অর্থ: প্রকৃত ধর্ম ভগবান নিজে দিয়েছেন। মানুষ তৈরি করেনি। বাকি অনেক মত-পথ, ধর্ম বা দর্শন হলো: - মানুষের মনগড়া বা সময়ের সাথে রূপান্তরিত সংস্করণ - ভক্তির মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত পথ - কখনো আংশিক সত্য, কখনো পুরোপুরি বিভ্রান্ত ইসকনের অবস্থান: ISKCON (আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ) প্রচার করে শ্রীকৃষ্ণের দেওয়া আদি ধর্ম — ভগবানের প্রতি নিঃস্বার্থ ও নিরন্তর প্রেমময় ভক্তি (ভক্তি-যোগ), যা গুরু-শাস্ত্র-সাধু দ্বারা প্রমাণিত। ইসকন বলে না যে "আমরা আলাদা ধর্ম", বরং ইসকনের বার্তা হলো: “আসুন, আমরা সবাই মূল ধর্ম — ভগবানের প্রেমে, ভক্তিতে — ফিরে যাই।” অতএব, পৃথিবীতে অনেক মত-পথ থাকলেও, ভগবান এক ও অদ্বিতীয়। তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন — যেন আমরা তাঁকে নিজ ইচ্ছায় ভালোবাসতে পারি, বাধ্য হয়ে নয়। এই স্বাধীনতা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মতবাদ, ধর্ম বা দর্শন। কিন্তু, যারা সত্যিকার জ্ঞান, প্রেম ও মুক্তি চায় — ভগবান তাঁদের প্রকৃত ধর্মের পথ দেখান। আপনি যদি এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে ও শাস্ত্রসম্মতভাবে জানতে চান, তাহলে নিম্নলিখিত গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করে দেখতে পারেন। এই গ্রন্থগুলো শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ রচিত — যিনি ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও ভাগবতমের বিশ্বব্যাপী প্রচারক। সুপারিশকৃত গ্রন্থগুলো (ISKCON ও প্রভুপাদ রচিত): 1. ভগবদ্গীতা যথারূপ (Bhagavad-gītā As It Is) - ইসকনের প্রধান দর্শন ও শিক্ষার মূল ভিত্তি - এখানে সব মত-পথের প্রকৃতি, বিভ্রান্তির কারণ, এবং সনাতন ধর্মের স্বরূপ পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। - প্রতিটি শ্লোকের শব্দার্থ, অনুবাদ এবং প্রভুপাদের বিশ্লেষণ/তাৎপর্য রয়েছে। 2. শ্রীমদ্ভাগবতম (Śrīmad Bhāgavatam) – প্রথম ক্যাণ্ড বিশেষভাবে - মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য, ধর্মের প্রকৃতি ও ধর্মবিচ্যুতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা - জীবের বিপথগামিতা এবং তা থেকে মুক্তির পথ 3. সত্য কি? (Science of Self-Realization) - বিভিন্ন দার্শনিক প্রশ্নের জবাব: “সব ধর্ম কি একই?”, “ঈশ্বর এক হলে এত বিভ্রান্তি কেন?” — সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা - নবাগতদের জন্য খুবই সহজবোধ্য 4. ভক্তির শাস্ত্র (The Nectar of Devotion) - বিশুদ্ধ ভক্তির প্রকৃতি ও অনুশীলন — মূল ধর্ম কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়


