হিন্দু ধর্মে পূজাকে উদ্দেশ্য, নিয়ম, সময় এবং স্থান অনুযায়ী মূলত ৪টি প্রধান দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়:
১. উদ্দেশ্য ও নিয়মের ভিত্তিতে
নিত্য পূজা: প্রতিদিন ঘরে বা মন্দিরে নিয়মিত যে পূজা করা হয় (যেমন: পঞ্চায়তন পূজা, গৃহদেবতার আরতি)।
নৈমিত্তিক পূজা: নির্দিষ্ট কোনো তিথি, পর্ব বা উপলক্ষে আয়োজিত পূজা (যেমন: দুর্গাপূজা, কালীপূজা, প্রদোষ ব্রত)।
কাম্য পূজা: কোনো বিশেষ ফল বা মনোবাসনা পূরণের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত পূজা (যেমন: সত্যনারায়ণ পূজা, নির্দিষ্ট ব্রত-উপবাস)।
প্রায়শ্চিত্ত পূজা: কোনো ভুল বা পাপ থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে করা বিশুদ্ধিকরণ পূজা।
২. পদ্ধতি বা উপাচারের ভিত্তিতে
উপাসনার গভীরতা ও উপকরণের ওপর ভিত্তি করে এটি বিভিন্ন উপাচারে বিভক্ত:
পঞ্চোপচার: ৫টি উপকরণ দিয়ে পূজা (গন্ধ/চন্দন, পুষ্প, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য)।
দশোপচার: ১০টি উপকরণ সমৃদ্ধ পূজা।
ষোড়শোপচার: ১৬টি উপকরণ দিয়ে করা বিস্তারিত পূজা (উৎসব ও বড় আয়োজনে প্রযোজ্য)।
৩. স্থানের ভিত্তিতে
গৃহস্থ পূজা: ব্যক্তিগতভাবে বাড়িতে করা সহজ সংক্ষিপ্ত পূজা।
সার্বজনীন বা পারিবারিক পূজা: মন্দির বা মণ্ডপে সমাজ বা বৃহৎ পরিবারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বড় ধর্মীয় উৎসব।
৪. উপাসনার ধারণার ভিত্তিতে
সগুণ (সাকার) পূজা: দেবদেবীর প্রতিমা, ছবি বা প্রতীকে ঈশ্বরকে সাকার রূপে উপাসনা।
মানস পূজা: কোনো বাহ্যিক উপকরণ ছাড়া সম্পূর্ণ মনের ভেতরে দেবদেবীকে স্মরণ করে পূজা করা।


