হিন্দু ধর্মের বয়স কত, তা নির্ধারণ করা কিছুটা জটিল, কারণ এটি ঐতিহাসিক গবেষণা এবং ধর্মীয় অনুভূতির দুটি আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়।
১. ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে, হিন্দু ধর্ম পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সক্রিয় ধর্ম (Oldest Living Religion)।
বৈদিক যুগ: হিন্দু ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ 'ঋগ্বেদ' আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ১২০০ অব্দের মধ্যে সংকলিত হয়। সেই হিসেবে এই ধর্মের লিখিত ইতিহাস প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ বছরের পুরনো।
সিন্ধু সভ্যতা: সিন্ধু সভ্যতার (আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ - ১৫০০ অব্দ) বিভিন্ন নিদর্শন (যেমন: পশুপতি সীল, মাতৃদেবী ও শিবলিঙ্গের প্রতীক) পর্যালোচনা করে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, হিন্দু ধর্মের মূল গোড়াপত্তন হয়েছিল প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ বছর আগে।
২. ধর্মীয় ও পৌরাণিক দৃষ্টিকোণ
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হিন্দু ধর্ম বা 'সনাতন ধর্ম'-এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা নেই এবং এটি অনাদি ও অনন্ত।
'সনাতন' শব্দের অর্থই হলো যা চিরন্তন বা শাশ্বত, যার শুরু বা শেষ নেই।
হিন্দু বিশ্বাস মতে, ঈশ্বর সৃষ্টি শুরু করার সময়েই এই ধর্মের মূল বাণী বা বেদ প্রকাশ করেন। তাই সনাতন ধর্মের বয়সকে সময় দিয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না।
ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়—একটি সুসংগঠিত ধারা হিসেবে হিন্দু ধর্ম কমপক্ষে ৪,০০০ বছরের পুরনো।


