কোনো কোনো দম্পতির কেন কখনোই ছেলে সন্তান হয় না?
1 answers
20 views
Uzzwal Dhali
Sajib
+2
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

কোনো কোনো দম্পতির বারবার কেবল কন্যা সন্তান হওয়া অথবা কখনোই ছেলে সন্তান না হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো জীববৈজ্ঞানিক বা জিনগত (Genetic) প্রক্রিয়া। প্রাচীনকালে বা কুসংস্কারের কারণে এর জন্য নারীকে দায়ী করা হলেও, আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী এর পেছনে মূল ভূমিকা থাকে পুরুষের শুক্রাণুর। নিচে বৈজ্ঞানিক কারণগুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হলো:

১. লিঙ্গ নির্ধারণের মূল বিজ্ঞান (X ও Y ক্রোমোজোম) মানুষের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া (৪৬টি) ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে ১ জোড়া হলো যৌন ক্রোমোজোম, যা সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে: * নারীর ডিম্বাণুতে কেবল X ক্রোমোজোম থাকে। পুরুষের শুক্রাণুতে X এবং Y—এই দুই ধরনের ক্রোমোজোমই থাকে। গর্ভাধানের মুহূর্তে: যদি পুরুষের X-ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু নারীদের ডিম্বাণুকে (X) নিষিক্ত করে, তবে সন্তান হয় কন্যা (XX)। যদি পুরুষের Y-ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু নারীদের ডিম্বাণুকে (X) নিষিক্ত করে, তবে সন্তান হয় পুত্র (XY)। অর্থাৎ, সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে — তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে পুরুষের কোন শুক্রাণুটি (X না Y) ডিম্বাণুর সাথে মিলন ঘটাচ্ছে তার ওপর।

২. কেন কোনো দম্পতির কেবল মেয়ে সন্তান হয়? চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণার মতে, নির্দিষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে যার জন্য একটি দম্পতির ক্ষেত্রে Y-শুক্রাণু সফল হতে পারে না:

ক) জিনগত প্রবণতা (Family/Genetic Pedigree) কিছু পুরুষ জিনগতভাবেই এমন বৈশিষ্ট্য বহন করেন, যাতে তাঁদের শরীরে X-ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু তৈরির হার Y-ক্রোমোজোমের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। একে জিনেটিক ভারসাম্যহীনতা বলা যায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি তাঁদের পারিবারিক ধারার (Father's line) ওপরও কিছুটা নির্ভর করতে পারে।

খ) Y-ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণুর দুর্বলতা Y-শুক্রাণু আকারে ছোট এবং বেশ দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে, কিন্তু এদের আয়ু বা সহনশীলতা কম হয়। X-শুক্রাণু আকারে বড়, গতি কিছুটা ধীর হলেও এরা তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী এবং জরায়ুর আম্লিক (Acidic) পরিবেশে বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে। যদি কোনো পুরুষের Y-শুক্রাণুগুলোর আকৃতিতে ত্রুটি থাকে বা সেগুলোর গতিশীলতা (Motility) কম থাকে, তবে সেগুলো ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বারবার X-শুক্রাণুই জয়ী হয় এবং কন্যা সন্তান জন্মায়।

গ) জরায়ুর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ (pH Level) নারীর জরায়ু ও যোনিপথের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ (pH balance) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি নারীর প্রজনন নালীর পরিবেশ অতিরিক্ত অম্লীয় (Acidic) হয়, তবে দুর্বল Y-শুক্রাণুগুলো সেখানে টিকে থাকতে পারে না। ফলে কেবল শক্তিশালী X-শুক্রাণুগুলোই টিকে থেকে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে।

ঘ) প্রাকৃতিক বা পরিসংখ্যানগত কাকতালীয় ঘটনা (Random Probability) বিজ্ঞানের নিয়মে প্রতিটি গর্ভাধানের সময়ে ছেলে বা মেয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা ৫০%-৫০%। এটি অনেকটা একটি মুদ্রা (Coin) শূন্যে টস করার মতো। কখনও কখনও পরপর ৪-৫ বার টস করলেও যেমন 'হেড' পড়তে পারে, তেমনি প্রতিবারই ৫০% সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রাকৃতিকভাবে দুর্ঘটনাবশত বা কাকতালীয়ভাবে প্রতিবারই X-শুক্রাণু বিজয়ী হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের বা নারীর কোনো ভূমিকা নেই। এটি সম্পূর্ণই একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। পুত্র বা কন্যা সন্তান—উভয়েই মাতা-পিতার জিনগত বৈশিষ্ট্যের বাহক এবং সমান ভালোবাসার অধিকারী।

Uzzwal Dhali
+1