মৃত্যুর পর আমি কোথায় যাবো?
1 answers
12 views
Uzzwal Dhali
Sajib
+2
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

এই প্রশ্নের উত্তর ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ ও দর্শন থেকে ভিন্নভাবে দেওয়া হয়ে থাকে। তবে যেহেতু আমরা আগের আলোচনাগুলোতে সনাতন ও বৈষ্ণব দর্শন নিয়ে কথা বলছিলাম, সেই ভাবধারা এবং সাধারণ আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ — উভয় দিক থেকেই এর উত্তর বিবেচনা করা যাক:

১. সনাতন ও বৈষ্ণব দর্শনের দৃষ্টিকোণ সনাতন দর্শন অনুযায়ী, মৃত্যু হলো কেবল স্থূল দেহের পরিবর্তন, আত্মার বিনাশ নয়। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন — মানুষ যেমন পুরনো পোশাক ত্যাগ করে নতুন পোশাক পরেন, আত্মাও তেমনি জীর্ণ দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে। মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যাবে, তা মূলত নির্ভর করে ব্যক্তির কর্মফল, প্রারব্ধ এবং জীবনের অন্তিম চেতনার (ভাবের) ওপর:

পুনর্জন্ম (জড়জগতে প্রত্যাবর্তন): জীবনের শেষ মুহূর্তে মানুষের মন যার কথা চিন্তা করে বা যে ভাব পোষণ করে, আত্মা সেই অনুযায়ী পরবর্তী দেহ বা লোক লাভ করে

যং যং বাপি স্মরন্ ভাবং ত্যজত্যন্তে কলেবরম্।
তং তমেবৈতি কৌন্তেয় সদা তদ্ভাবভাবিতঃ॥
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৮/৬

অনুবাদ: হে কৌন্তেয় (অর্জুন)! মানুষ মৃত্যুকালে যে যে ভাব স্মরণ করে দেহ ত্যাগ করে, সে সারাজীবন সর্বদা সেই ভাবের দ্বারা ভাবিত থাকার কারণে সেই ভাব বা অবস্থাটিকেই লাভ করে।

জাগতিক কামনা-বাসনা ও কর্মের বন্ধন অবশিষ্ট থাকলে আত্মা পুনরায় এই মর্ত্যলোকে কোনো না কোনো শরীরে জন্মগ্রহণ করে।

দিব্যলোক বা স্বর্গ-নরক: সাধারণ শুভ কর্মের ফলে আত্মা সাময়িকভাবে স্বর্গলোক এবং পাপকর্মের ভোগ মেটাতে নির্দিষ্ট লোক প্রাপ্ত হয়। তবে সেই কর্মফল শেষ হলে আবার সংসারে ফিরে আসতে হয়।

পরম গতি বা ভগবৎ-ধাম (পরম শ্রেয়): বৈষ্ণব মতে, যিনি জীবনে পরমেশ্বর ভগবানের ভক্তি ও প্রেম লাভ করেছেন এবং অন্তিমকালে শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করেন, তিনি আর এই ত্রিতাপদগ্ধ সংসারে ফিরে আসেন না। তিনি চিরন্তন অপ্রয়াকৃত ধামে (যেমন গোলোক বা বৈকুণ্ঠ) ভগবানের নিত্য সেবায় প্রবেশ করেন।

২. সাধারণ চেতনা ও আধ্যাত্মিক ভাব আমাদের সত্তা মূলত দুটি জিনিসের সমষ্টি — শরীর এবং চেতনা (বা আত্মা)।

শরীরের গতি: পঞ্চভূতে তৈরি এই দেহ সৎকারের (অগ্নিদাহ বা দাফন) মাধ্যমে প্রকৃতির উপাদানগুলোর সাথে পুনরায় মিশে যায়।

চেতনার গতি: আপনার বর্তমান জীবনের চেতনা, ধ্যান-ধারণা এবং বাসনাই নির্ধারণ করে আপনার অন্তিম পরিণতি। আপনি যদি জীবনে লোভ, মোহ ও অহংকারকে প্রাধান্য দেন, তবে মন সেই বন্ধনেই আটকে থাকে। আর যদি প্রেম, ভক্তি, সততা ও নিষ্কামী ভাব চর্চা করেন, তবে আত্মা মুক্ত ও শান্তিময় গতি লাভ করে।

৩. আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ বিজ্ঞান বস্তুর বা শক্তির রূপান্তর নিয়ে কথা বলে। পদার্থবিজ্ঞানের মূল নীতি হলো — শক্তির কোনো সৃষ্টি বা বিনাশ নেই, কেবল রূপান্তর ঘটে। জীবন চলাকালীন আমাদের দেহের ভেতর যে জৈব-শক্তি (Bio-energy) এবং তথ্যপ্রবাহ কাজ করে, মৃত্যুর পর তা মহাবিশ্বের শক্তির মহাসমুদ্রে পুনরায় মিলিয়ে যায়।

মৃত্যুর পর আপনার গন্তব্য কোথায় হবে, তা নির্ভর করছে এই মুহূর্তে এবং সারাজীবন আপনি কীভাবে বাঁচছেন তার ওপর। আপনার সৎকর্ম, মনস্তাত্ত্বিক মুক্তি এবং আধ্যাত্মিক চেতনায় ঈশ্বর ও প্রেমের উপস্থিতিই আপনাকে পরম গতি বা শান্তির দিকে নিয়ে যাবে।

Uzzwal Dhali
+1