Uzzwal DhaliVerified
April 12, 2026
প্রসাদ পাওয়ার আগে কোন মন্ত্র উচ্চারণ করতে হয়?
1 answers
23 views
Uzzwal Dhali
Trishna Roy
+2
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

প্রসাদ গ্রহণের আগে সাধারণত ভগবানকে নিবেদন করার এবং তাঁর করুণা স্মরণ করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্র বা শ্লোক পাঠ করা হয়। সবচেয়ে প্রচলিত এবং জনপ্রিয় পদ্ধতিটি নিচে দেওয়া হলো:

১. ভোজন মন্ত্র (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে)

অনেকেই প্রসাদ গ্রহণের আগে গীতার চতুর্থ অধ্যায়ের ২৪ নম্বর শ্লোকটি পাঠ করেন:

ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্ম হবির্ভ্রম্ভাগ্নৌ ব্রহ্মণা হুতম্।

ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং ব্রহ্মকর্মসমাধিনা।।

অর্থ: অর্পণ (যজ্ঞের পাত্র ইত্যাদি) ব্রহ্ম, হব্য (ঘি বা অন্ন) ব্রহ্ম, অগ্নিও ব্রহ্ম এবং যজ্ঞকর্তাও ব্রহ্ম। ব্রহ্মরূপ কার্যে একাগ্রচিত্ত ব্যক্তির দ্বারা সেই ব্রহ্মই প্রাপ্ত হওয়া যায়।


২. মহাপ্রসাদে ভক্তি (চৈতন্য চরিতামৃত থেকে)

ইসকন বা গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্যে প্রসাদ পাওয়ার আগে এই মন্ত্রটি বিশেষভাবে পাঠ করা হয়:

মহাপ্রসাদে গোবিন্দে নামব্রহ্মণি বৈষ্ণবে।

স্বল্পপুণ্যবতাং রাজন বিশ্বাসো নৈব জায়তে।।

অর্থ: হে রাজন! যাঁর পুণ্য অত্যন্ত অল্প, তাঁর মহাপ্রসাদে, গোবিন্দে, ভগবানের নামে এবং বৈষ্ণবে বিশ্বাস জন্মে না।


৩. শরীর অবিদ্যা জাল (প্রসাদ সেবনের গান)

ভক্তিিবনোদ ঠাকুরের এই শ্লোকটিও খুব জনপ্রিয়:

শরীর অবিদ্যা-জাল, জড়েন্দ্রিয় তাহে কাল,

জীবে ফেলে বিষয়-সাগরে।

তার মধ্যে জিহ্বা অতি, লোভময় সুদুর্মতি,

তাকে জেতা কঠিন সংসারে।।

কৃষ্ণ বড় দয়াময়, করিবারে জিহ্বা জয়,

স্বপ্রসাদ অন্ন দিলা ভাই।

সেই অন্নামৃত পাও, রাধাকৃষ্ণ-গুণ গাও,

প্রেমে ডাকো চৈতন্য-নিতাই।।


সংক্ষেপে করণীয়:

যদি মন্ত্র জানা না থাকে, তবে অন্তত অত্যন্ত ভক্তির সাথে "ওঁ শ্রীবিষ্ণু" বা "হরেকৃষ্ণ" মহামন্ত্র স্মরণ করেও প্রসাদ গ্রহণ করা যায়। প্রসাদ পাওয়ার সময় মনে এই ভাব রাখা উচিত যে, এটি সাধারণ খাবার নয়, বরং ভগবানের অধরামৃত বা কৃপা।

Uzzwal Dhali
+1