হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কেন জপ করতে হয়?
2 answers
121 views
Sancita Majumdar
Uzzwal Dhali
Asish Biswas
+5
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

2 Answers

হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কেন জপ করা দরকার তার মূল কারণগুলো সংক্ষেপে নিচে আলোচনা করা হলো —

চিত্তশুদ্ধি: কলিযুগে মানুষের মন নানা রকম মানসিক চাপ, কাম, ক্রোধ ও মোহ দ্বারা আবৃত থাকে। এই মন্ত্র জপ করলে মন ও হৃদয়ের সমস্ত কলুষতা দূর হয়ে চিত্ত দর্পণের মার্জন ঘটে।

মানসিক শান্তি ও একাগ্রতা: মহামন্ত্রের নিয়মিত জপ অস্থির মনকে শান্ত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ ও একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ভগবদপ্রেম ও ভক্তি লাভ: সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, এই মন্ত্র জপের মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অহেতুকী ভক্তি ও বিশুদ্ধ প্রেমের জাগরণ ঘটে।

মোক্ষ বা মুক্তি লাভ: কলিযুগের সমস্ত পাপকর্মের ফল থেকে মুক্ত হয়ে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি (মোক্ষ) পাওয়ার এটি সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী মাধ্যম।

কলিসন্তরন উপনিষদ ও শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত অনুযায়ী
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥" — এই ষোল নাম বত্রিশ অক্ষরের মহামন্ত্রটি কলিযুগের কলুষতা বিনাশের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়।

Uzzwal Dhali
Bijoy Podder Sujoy
+2

সনাতন ধর্মে, বিশেষ করে কলিযুগে, হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার গুরুত্ব অপরিসীম। কলিসন্তরণ উপনিষদ, শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ এবং শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত সহ বিভিন্ন শাস্ত্রে এই মন্ত্র জপ করার মূল কারণ ও উপকারিতাগুলো খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে বলা.

নিচে মূল কারণগুলো পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলো:

১. কলিযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সহজতম সাধন (যুগধর্ম)

শাস্ত্র অনুযায়ী, সত্য যুগে ধ্যান, ত্রেতা যুগে যজ্ঞ এবং দ্বাপর যুগে অর্চনার (পূজা) মাধ্যমে ভগবানকে লাভ করা যেত। কিন্তু কলিযুগে মানুষের আয়ু, বুদ্ধি ও শক্তি কম। তাই এই যুগের একমাত্র সহজ ও প্রধান ধর্ম হলো ভগবানের নাম সংকীর্তন।

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। > হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥ > ইতি ষোড়শঙ্কং নাম্নাং কলিকল্পষনাশনম্। > নাতঃ পরতরোপায়ঃ সর্ববেদেষু দৃশ্যতে॥" (কলিসন্তরণ উপনিষদ) > অর্থ: এই বত্রিশ অক্ষরের ষোলোটি নাম কলিযুগের সমস্ত পাপ নাশ করে। সমস্ত বেদে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো উপায় আর দেখা যায় না।

২. চিত্ত বা মন শুদ্ধিকরণ

আমাদের মন কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ ইত্যাদি জাগতিক কলুষতায় ঢাকা থাকে। হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করলে মনের এই সমস্ত ময়লা দূর হয়ে যায়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর 'শিক্ষাষটকম'-এর প্রথম শ্লোকেই বলেছেন:

"চেতোদর্পণমার্জনং..." > অর্থাৎ, হরিনাম জপ করলে চিত্ত রূপ দর্পণের (মনের আয়নার) সমস্ত ধুলোবালি পরিষ্কার হয়ে যায় এবং মন শান্ত ও পবিত্র হয়।

৩. কর্মবন্ধন ও জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি

মানুষ তার ভালো ও মন্দ কর্মের কারণে বারবার জন্ম-মৃত্যুর চক্রে (সংসার বন্ধনে) আবর্তিত হয়। হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করলে মানুষের সমস্ত প্রারব্ধ কর্মের ফল ক্ষয় হয় এবং মানুষ মোক্ষ বা মুক্তি লাভ করে ভগবানের নিত্যধামে ফিরে যাওয়ার যোগ্যতা পায়।

৪. ভগবানের প্রতি শুদ্ধ প্রেম লাভ

এই মন্ত্রটি কেবল মুক্তির জন্য নয়, এটি জপ করার মূল উদ্দেশ্য হলো ভগবানের প্রতি নিষ্কাম ও অহৈতুকী প্রীতি বা 'কৃষ্ণপ্রেম' লাভ করা।

  • 'হরে' শব্দের অর্থ শ্রীমতী রাধারানী (ভগবানের হ্লাদিনী শক্তি), যিনি কৃষ্ণভক্তি প্রদান করেন।

  • 'কৃষ্ণ' শব্দের অর্থ যিনি সকলকে আকর্ষণ করেন।

  • 'রাম' শব্দের অর্থ যিনি পরম আনন্দ প্রদান করেন। এই মন্ত্র জপের মাধ্যমে জীবাত্মা ভগবানের পরম আনন্দের সাথে যুক্ত হতে পারে।

৫. মানসিক শান্তি ও আত্মিক সুরক্ষা

জাগতিক জীবনে আমরা নানা দুশ্চিন্তা, ভয় ও অবসাদে ভুগি। মহামন্ত্র জপ করলে মনের ভেতর এক অলৌকিক ইতিবাচক শক্তির সৃষ্টি হয়, যা সব ধরণের নেতিবাচক শক্তি বা চিন্তা থেকে মানুষকে দূরে রাখে এবং পরম শান্তি প্রদান করে।

সারকথা:

হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার অর্থ হলো পরমেশ্বর ভগবানের কাছে আকুল প্রার্থনা করা—"হে ভগবান, হে ভগবানের অন্তcrossed শক্তি (রাধারাণী), দয়া করে আমাকে আপনার চরণে আশ্রয় দিন এবং আপনার সেবায় নিযুক্ত করুন।" এটি আত্মার আসল খাদ্য।