মহাভারত অনুসারে গান্ধারীর শত পুত্রের জন্ম হওয়ার ঘটনাটি বেশ অলৌকিক এবং দীর্ঘ এক প্রক্রিয়ার ফল। এই ঘটনার পেছনে মহর্ষি বেদব্যাসের বর এবং একটি বিশেষ পদ্ধতির কথা উল্লেখ আছে:
১. মহর্ষি ব্যাসদেবের বর
একবার মহর্ষি বেদব্যাস তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় গান্ধারীর প্রাসাদে উপস্থিত হন। গান্ধারী অত্যন্ত ভক্তিভরে তাঁর সেবা করেন। গান্ধারীর সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে ব্যাসদেব তাকে বর দিতে চাইলে গান্ধারী একশটি শক্তিশালী পুত্রসন্তান লাভের প্রার্থনা করেন। ব্যাসদেব সেই বর প্রদান করেন।
২. দীর্ঘ গর্ভকাল ও মাংসপিণ্ড
বর পাওয়ার পর গান্ধারী গর্ভবতী হন, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও তাঁর সন্তান ভূমিষ্ঠ হচ্ছিল না। এদিকে কুন্তী (পাণ্ডবদের মাতা) যুধিষ্ঠিরের জন্ম দিলে গান্ধারী অত্যন্ত হতাশ ও ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের পেটে আঘাত করেন। এর ফলে তাঁর গর্ভপাত হয় এবং শরীর থেকে একটি শক্ত লোহার মতো মাংসপিণ্ড নির্গত হয়।
৩. ব্যাসদেবের পরামর্শ ও পদ্ধতি
এই মাংসপিণ্ড দেখে গান্ধারী যখন তা ফেলে দিতে যাচ্ছিলেন, তখন ব্যাসদেব সেখানে উপস্থিত হন। তিনি গান্ধারীকে ধৈর্য ধরতে বলেন এবং কিছু নির্দেশনা দেন:
তিনি ১০০টি ঘি-ভর্তি মাটির পাত্র (কুন্ড) প্রস্তুত করতে বলেন।
এরপর সেই মাংসপিণ্ডটিকে শীতল জল দিয়ে ধুয়ে ফেলার পর তা ১০১টি টুকরোতে বিভক্ত হয়ে যায় (১০০ পুত্র এবং ১টি কন্যা সন্তান লাভের জন্য)।
প্রতিটি টুকরোকে একেকটি ঘৃতপূর্ণ পাত্রে রাখা হয়।
৪. ১০০ পুত্রের জন্ম
পাত্রগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে দুই বছর রাখা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময় পর একে একে পাত্রগুলো থেকে সন্তান জন্ম নিতে শুরু করে।
সবচেয়ে প্রথম পাত্র থেকে জন্ম নেন দুর্যোধন।
এরপর বাকি ৯৯ জন পুত্র (দুঃশাসনসহ অন্য ভাইরা) এবং একটি কন্যা, যার নাম ছিল দুঃশলা, জন্মলাভ করেন।
এই অলৌকিক উপায়েই কৌরবদের জন্ম হয়েছিল। তবে পুরাণে উল্লেখ আছে, দুর্যোধনের জন্মের সময় নানা অশুভ লক্ষণ (যেমন: শিয়ালের ডাক, ঝড়-বৃষ্টি) দেখা দিয়েছিল, যা দেখে পণ্ডিতরা তখনই কুরুবংশ ধ্বংসের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।


