শ্রীমতী রাধার মহিমা বা মাহাত্ম্য সরাসরি বেদ-উপনিষদে খুব স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও পরবর্তী বহু শাস্ত্র ও পুরাণে, বিশেষত বৈষ্ণব-সম্প্রদায়ের গ্রন্থে, রাধার মাহাত্ম্য বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। প্রধানত নিম্নলিখিত শাস্ত্রগুলোতে রাধার মাহাত্ম্য পাওয়া যায়—
📖 পুরাণ ও আদি গ্রন্থ
ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ (কৃষ্ণ-জন্মখণ্ড ও গোপীখণ্ড) – এখানে রাধাকে কৃষ্ণের অঙ্গীভূতা ও পরম দেবী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে রাধা ছাড়া কৃষ্ণ পূর্ণ নন।
পদ্ম পুরাণ – গোপী-লীলা ও রাধার গুরুত্বের উল্লেখ আছে।
গর্গ সংহিতা – কৃষ্ণ-রাধার লীলার বিস্তৃত বর্ণনা ও রাধার গোপীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব।
স্কন্দ পুরাণ – বৃন্দাবন-মাহাত্ম্যের অংশে রাধার গুণগান আছে।
নারদ পুরাণ – ভক্তিশক্তি হিসেবে রাধার পরিচয় পাওয়া যায়।
📖 বৈষ্ণব আচার্য প্রণীত গ্রন্থ
শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ – রাধার নাম সরাসরি নেই, তবে “অনায়ারাধিতো নূনং...” (ভ্রজগোপীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভক্তি) শ্লোক দ্বারা রাধাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ব্রহ্ম সংহিতা – রাধাকে “গো-বিন্দানন্দিনী” ও পরাশক্তি হিসেবে উল্লেখ।
গীত গোবিন্দ (জয়দেব গোস্বামী রচিত) – কৃষ্ণ-রাধার প্রেমলীলা কাব্যরূপে অমর করা হয়েছে।
শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত (কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী) – চৈতন্য মহাপ্রভুর মাধ্যমে রাধার ভক্তিশক্তি ও কৃষ্ণপ্রেমের সর্বোচ্চ মাহাত্ম্য প্রকাশিত হয়েছে।
ভক্তি-শাস্ত্রসমূহ (রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী প্রণীত উজ্জ্বলনীলমণি, ভক্তিরসমৃতসিন্ধু) – রাধাকে মহাভাব-স্বরূপিণী, কৃষ্ণপ্রেমের পরম আচার্য রূপে বর্ণনা করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
➡️ পুরাণে – রাধাকে কৃষ্ণশক্তি, প্রেমশক্তি ও সর্বোচ্চ গোপী রূপে বর্ণনা।
➡️ ভাগবত ও ভক্তিগ্রন্থে – রাধা ভক্তির আদর্শ, কৃষ্ণপ্রেমের পরাকাষ্ঠা।
➡️ চৈতন্য সাহিত্য – রাধার মাহাত্ম্যকে সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।


