Uzzwal DhaliVerified
August 6, 2025
ইসকন্ (ISKCON) এর চারটি নিয়ম বা বিধিনিষেধের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা কি?
3 answers
66 views
Asish Biswas
Eva Dhali
Uzzwal Dhali
+3
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

3 Answers
Asish BiswasVerified
August 6, 2025

ইসকন্ (ISKCON – International Society for Krishna Consciousness) সংগঠনটি শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, এবং এর ভিত্তি ভাগবত ধর্ম ও ভক্তিযোগ। ভক্তদের জীবন শুদ্ধ ও কৃষ্ণ-চেতনায় স্থিত রাখার জন্য ইসকন চারটি প্রধান নিয়ম (চারটি বিধিনিষেধ) মানার উপর গুরুত্ব দেয়। এই চারটি নিয়ম মূলত শাস্ত্রীয় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এবং ভক্তির পথে অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত।

নিচে এই চারটি বিধিনিষেধ ও তাদের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

✅ ১. নিরামিষ আহার — মাংস, মাছ, ডিম না খাওয়া

শাস্ত্রীয় ভিত্তি:

ভগবদ্গীতা ৯.২৬:

> পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং, যো মে ভক্ত্যা প্রয়চ্ছতি।

তদহং ভক্ত্যুপহৃতম্ অশ্নামি প্রয়তাত্মনঃ॥

অর্থ: যে ভক্তিপূর্বক আমাকে পত্র (পাতা), পুষ্প (ফুল), ফল বা জল প্রদান করে, আমি তা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করি।

মনুস্মৃতি ৫.৪৫-৪৬:

> অহিংসা পরমো ধর্মঃ – অহিংসাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। প্রাণীহিংসা থেকে বিরত থাকা এবং শুধু কৃষ্ণকে উৎসর্গযোগ্য পবিত্র আহার গ্রহণ করার আদর্শ থেকেই এই নিয়মটি এসেছে।

✅ ২. অবৈধ যৌন সম্পর্ক পরিহার (শুধু গার্হস্থ্য জীবনে সন্তান উৎপত্তির জন্য বৈধ যৌনতা অনুমোদিত)

শাস্ত্রীয় ভিত্তি:

ভগবদ্গীতা ৭.১১:> ধর্মাবিরুদ্ধো ভূতেষু কামোऽস্মি ভরতর্ষভ।

অর্থ: হে ভরতবংশীয়, আমি সেই কাম যা ধর্মসম্মত – অবৈধ কামনাকে আমি সমর্থন করি না।

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১১.৫.১১:> লাস্য গানাদি লোলূপতা... — যিনি সংযমী নন, তিনি ভক্তিযোগে অগ্রসর হতে পারেন না।

বৈষ্ণব দর্শনে ইন্দ্রিয়-সংযম গুরুত্বপূর্ণ, আর অবৈধ যৌনতা ইন্দ্রিয় ভোগের চূড়ান্ত প্রকাশ।

✅ ৩. মদ্যপান, নেশা দ্রব্য, ধূমপান ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ না করা

শাস্ত্রীয় ভিত্তি:

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১.১৭.৩৮:> পানম ধূমং নারীসঙ্গং... এভং ধর্ম চারিণঃ।

অর্থ: মদ্যপান, ধূমপান, নারীসঙ্গ (অবৈধ যৌনতা), পশুহত্যা – এইসব ধর্মের পরিপন্থী কাজ।

চাণক্য নীতি:> মদঃ শ্রীয়ম্ হরতি বুদ্ধিম্ নাশয়তি — মদ্যপান সম্পদ ও বুদ্ধি ধ্বংস করে।

নেশা ইন্দ্রিয় ও মনকে বিভ্রান্ত করে, যা ভক্তির পথে বড় বাধা।

✅ ৪. জুয়া ও ভাগ্য নির্ভর খেলা পরিহার (যেমন তাস, লটারি, বেটিং ইত্যাদি)

শাস্ত্রীয় ভিত্তি:

মনুস্মৃতি ৭.৫০:> দ্যূতং চাকর্ষণং চৈব রাজনাম্ রাজারিপুম্ স্মৃতম্।

জুয়া রাজ্যের ও সমাজের ধ্বংস ডেকে আনে।

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১.১৭.৩৮ আবার এই চারটি পাপের কথা একত্রে উল্লেখ করেছে – জুয়া তার একটি।

জুয়া লোভ ও অসততা বৃদ্ধি করে, যা ভক্তির পথে সর্বনাশের কারণ।

উপসংহার:ইসকনের এই ৪টি নিয়ম শাস্ত্রসম্মত, এবং এগুলো মূলত ইন্দ্রিয় সংযম, শুচিতা ও ভক্তিপূর্ণ জীবনের জন্য অপরিহার্য। এগুলো পালন করলে ভক্ত হৃদয় থেকে আসক্তি দূর হয়ে ভগবদ্‌চেতনায় দৃঢ়তা আসে।

ঋষভNot verified
August 6, 2025

নিশ্চয়ই, ইসকনের এই চারটি নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির প্রতিটি নিয়মই বৈদিক শাস্ত্র ও ভগবদ্গীতার নীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত। প্রতিটি নিয়মের পেছনে রয়েছে গভীর দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক যুক্তি। নিচে প্রতিটির ভিত্তিভূমি ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হলো —


🔹 ১. অহিংসা — মাংস, মাছ, ডিম না খাওয়া

● ভিত্তি:

  • ভগবদ্গীতা, ৫ম অধ্যায়, ১৮নং শ্লোক
    বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি ।
    শুনি চৈব শ্বপাকে চ পন্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ ।।

    অনুবাদঃ জ্ঞানবান পন্ডিতেরা বিদ্যা-বিনয় সম্পন্ন ব্রাহ্মণ, গরু, হাতি, কুকুর এবং চণ্ডাল সকলের প্রতি সমদর্শী হন।

    ➤ এই শ্লোক থেকে বোঝা যায়, সমস্ত জীবের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত।

  • মনুস্মৃতি ৫.৪৯

    “যতদিন মানুষ মাংস খায়, ততদিন সে অন্য প্রাণীর প্রাণনাশে সহযোগী থাকে।”

● ব্যাখ্যা:

মাংসাহার আমাদের হৃদয়ে করুণা নষ্ট করে এবং হিংসা বৃদ্ধি করে। চৈতন্য মহাপ্রভু ও ভক্তিসাধকগণ নিরামিষভোজী ছিলেন। প্রাণহত্যা করলে তার প্রতিক্রিয়া (কর্মফল) ভোগ করতেই হয়।


🔹 ২. অবৈধ যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা

● ভিত্তি:

  • ভগবদ্গীতা ৭ম অধ্যায় ১১নং শ্লোক
    বলং বলবতাং চাহং কামরাগবিবর্জিতম্ ।
    ধর্মবিরুদ্ধো ভুতেষু কামোহস্মি ভরতর্ষভ ।।

    অনুবাদঃ হে ভরতর্ষভ! আমি বলবানের কাম ও রাগ বিবর্জিত বল এবং ধর্মের অবিরোধী কামরূপে আমি প্রাণীগণের মধ্যে বিরাজমান।

    ➤ অর্থাৎ কাম বা যৌনতা যদি ধর্মসিদ্ধ হয় (বিবাহিত জীবনে, সন্তান উৎপাদনের জন্য), তবেই তা গ্রহণযোগ্য।

  • ভগবত পুরাণ ১১.২০.২৬

    “যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ কাম, ক্রোধ, লোভ প্রভৃতি আসক্তিতে জড়িত থাকে, ততক্ষণ তার পক্ষে ভক্তি লাভ করা সম্ভব নয়।”

● ব্যাখ্যা:

অবৈধ যৌনতা চেতনাকে নিচে নামিয়ে দেয়, মনকে অস্থির করে এবং আত্মিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে। এজন্য গৃহস্থাশ্রমে বৈধ সম্পর্ক ছাড়া সবকিছু ত্যাগযোগ্য।


🔹 ৩. মাদকদ্রব্য গ্রহণ না করা (চা, কফি, সিগারেট, মদ, গাঁজা প্রভৃতি)

● ভিত্তি:

  • শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, অধ্যায় ১৪, শ্লোক নং ৬
    তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বা প্রকাশমনাময়ম্ ।
    সুখসঙ্গেন বধ্নাতি জ্ঞানসঙ্গেন চানঘ ।।


    অনুবাদঃ হে নিষ্পাপ! এই তিনটি গুণের মধ্যে সত্ত্বগুণ নির্মল হওয়ার ফলে প্রকাশকারী ও পাপশূণ্য এবং সুখ ও জ্ঞানের সঙ্গের দ্বারা জীবকে আবদ্ধ করে।

  • শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ১৬নং ও ১৭নং শ্লোক
    নাত্যশ্নতস্ত যোগোহস্তি ন চৈকান্তমনশ্নতঃ ।
    ন চাতিস্বপ্নশীলস্য জাগ্রতো নৈব চার্জুন ।।

    অনুবাদঃ হে অর্জুন, অধিক ভোজনকারী, নিতান্ত অনাহারী, অধিক নিদ্রাপ্রিয় ও নিদ্রাশূন্য ব্যক্তির যোগী হওয়া সম্ভব নয়।

    যুক্তাহারবিহারস্য যুক্তচেষ্টস্য কর্মসু ।
    যুক্তস্বপ্নাববোধস্য যোগো ভবতি দুঃখহা ।।

    অনুবাদঃ যিনি পরিমিত আহার ও বিহার করেন, পরিমিত প্রয়াস করেন, যাঁর নিদ্রা ও জাগরন নিয়মিত, তিনিই যোগ অভ্যাসের দ্বারা সমস্ত জড়-জাগতিক দুঃখের নিবৃত্তিসাধন করতে পারেন।

● ব্যাখ্যাঃ

মাদকদ্রব্য চেতনাকে আচ্ছন্ন করে, আত্মনিয়ন্ত্রণ নষ্ট করে ও অপ্রকৃতিস্থ করে। গীতা ও ভক্তিসংহিতায় উল্লেখ আছে, যতক্ষণ না চেতনা বিশুদ্ধ হয়, ততক্ষণ ভগবৎপ্রেম লাভ করা কঠিন।


🔹 ৪. জুয়া না খেলা (বাজি ধরা, লটারী, ফাঁকি দেওয়া ইত্যাদি)

● ভিত্তি:

  • শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১৬ তম অধ্যায়ের ৪ নং শ্লোক
    দম্ভো দর্পোহভিমানশ্চ ক্রোধঃ পারুষ্যমেব চ ।
    অজ্ঞানং চাভিজাতস্য পার্থ সম্পদমাসুরীম্ ।।

    অনুবাদঃ হে পার্থ, দম্ভ, দর্প, অভিমান, ক্লোধ, রূঢ়তা ও অজ্ঞান - এই সমস্ত গুণ আসুরিকতাভাবাপন্ন ব্যক্তিদের লাভ হয়।

  • মনুস্মৃতি ৭.৫০

    “রাজা কখনোই জুয়াখেলা ও মদ্যপানের অনুমতি দেবেন না।”

● ব্যাখ্যা:

জুয়া মানুষের চরিত্র ধ্বংস করে, লোভ ও প্রতারণাকে উৎসাহিত করে। এটি কর্মফলের মোহ তৈরি করে, যা আত্মজ্ঞান ও ঈশ্বরভক্তির পরিপন্থী।


✅ সারাংশঃ

এই চারটি নিয়ম পালন করলে –

  • চেতনা হয় বিশুদ্ধ

  • হৃদয় হয় কোমল ও পরমেশ্বরের প্রতি আকৃষ্ট

  • জীবন হয় নিয়মিত ও ত্যাগময়

  • ভগবানের প্রতি সত্যিকারের ভক্তি জাগে

প্রভুপাদ বলেন —

“এই চারটি নিয়ম যদি কেউ আন্তরিকভাবে মানে এবং ‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্র জপ করে, তবে সে খুব দ্রুতই আত্মিক উন্নতি লাভ করতে পারবে।”

Uzzwal DhaliVerified
April 15, 2026

ইসকন (ISKCON) এর চারটি প্রধান নিয়ম বা নিয়ন্ত্রক নীতি হলো —
১. আমিষ বর্জন,
২. নেশাবর্জন,
৩. অবৈধ যৌনসঙ্গ বর্জন এবং
৪. জুয়া বর্জন

যেগুলো মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য বৈদিক শাস্ত্রের ভিত্তিতে নির্দেশিত।
এই বিধিগুলো মূলত ধর্মের চারটি স্তম্ভ — দয়া, পবিত্রতা, তপস্যা ও সত্যবাদিতা ইত্যাদি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

চারটি নিয়মের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা —
১. আমিষ ভক্ষণ বর্জন (দয়া - Mercy): ভাগবতম ও গীতা অনুসারে, জীবহত্যা পাপ এবং এটি মানুষের করুণা বা দয়া গুণকে ধ্বংস করে। নিরামিষভোজন আত্মিক শুদ্ধির পথ।

২. নেশাজাতীয় দ্রব্য বর্জন (তপস্যা - Austerity): মাদক, মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য মানুষের বিবেক ও মনকে নিয়ন্ত্রণহীন করে। নেশাবর্জন মনকে শান্ত ও স্বচ্ছ রেখে আধ্যাত্মিক সাধনায় মনোযোগ বাড়ায়।

৩. অবৈধ যৌন সম্পর্ক বর্জন (পবিত্রতা - Cleanliness): বিবাহবন্ধনের বাইরে যেকোনো যৌন সম্পর্ক ('ইলিসিট সেক্স') মানুষের শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা নষ্ট করে।

৪. জুয়া খেলা বর্জন (সত্যবাদিতা - Truthfulness): জুয়া খেলা মানুষকে মিথ্যা, লোভ ও ছলনার দিকে নিয়ে যায়। সত্য ও নীতিবান জীবনযাপনের জন্য জুয়া বর্জন আবশ্যক।

এই নিয়মগুলো পালনের মাধ্যমে একজন ভক্ত কলিযুগের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে কৃষ্ণভাবনামৃত বা ভক্তিযোগে অগ্রসর হতে পারেন।