ইসকন বা ISKCON মূূলতঃ কি?
1 answers
28 views
Uzzwal Dhali
+1
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

ইসকনের পূর্ণরূপঃ
ইসকন (ISKCON) শব্দটি "International Society for Krishna Consciousness"–এর সংক্ষিপ্ত রূপ। বাংলায় একে বলা হয়: আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ

ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা
ইসকনের প্রতিষ্ঠা করেন এইচ.ডি.জি. স্বামী শ্রীল প্রভুপাদ (A.C. Bhaktivedanta Swami Prabhupada) ১৯৬৬ সালের ১৩ জুলাই, আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে। তিনি ছিলেন চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তিসংপ্রদায়ের একজন বিশিষ্ট আচার্য এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের একজন মহান প্রতিনিধি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভাবধারা ও ভক্তিমার্গ সারা বিশ্বে প্রচার করা।


ইসকনের মূল লক্ষ্য
১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভাবনায় মগ্ন থাকা এবং এই ভাবনা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া।
২. ভাগবত দর্শনের ভিত্তিতে মানুষের জীবনকে পরিশুদ্ধ করা।
৩. ভক্তির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নয়ন এবং সত্যিকারের শান্তি ও আনন্দের পথ দেখানো।
৪. গীতার (Bhagavad Gita) ও ভাগবতপুরাণের (Śrīmad Bhāgavatam) শিক্ষাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করা।


ইসকনের মূল কার্যক্রম

  • হরিনাম সংকীর্তন: পথে পথে কীর্তনের মাধ্যমে ভগবানের নাম প্রচার।

  • মন্দির স্থাপন: বিশ্বব্যাপী হাজারেরও বেশি মন্দির রয়েছে ইসকনের।

  • গ্রন্থ প্রকাশ: গীতা, ভাগবত, চৈতন্য চরিতামৃত ইত্যাদি গ্রন্থ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ ও বিতরণ।

  • প্রসাদ বিতরণ: ‘ফুড ফর লাইফ’ প্রজেক্টের মাধ্যমে দরিদ্র ও দুঃস্থদের মাঝে বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণ।

  • গুরু-শিষ্য পরম্পরা: গৌড়ীয় বৈষ্ণবীয় আচার অনুসারে দীক্ষা ও সাধনাভক্তির চর্চা।

ইসকনের মূল দর্শন

ইসকনের মূল ভিত্তি গীতার এই শ্লোকের উপর:

"সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ"
“সব ধর্ম ত্যাগ করে শুধু আমার শরণাগত হও।” — শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১৮.৬৬

এদের লক্ষ্য হচ্ছে নিরহংকার ও নিরলোভ হয়ে শুদ্ধ ভক্তির মাধ্যমে ভগবানকে সন্তুষ্ট করা। গৃহস্থ, ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসী – যেকোনো অবস্থায় থেকেও ভক্তি করা সম্ভব — এই মন্ত্র তারা ছড়িয়ে দেয়।

বিশ্বজুড়ে ইসকনের প্রভাব

  • বিশ্বের প্রায় ১৫০টির বেশি দেশে ইসকনের কার্যক্রম রয়েছে।

  • ইসকন শুধু একটি ধর্মীয় সংগঠন নয়, এটি সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের আন্দোলন হিসেবেও কাজ করে।

  • গীতার উপদেশের ভিত্তিতে মানুষকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের পথ দেখায়।

উপসংহার

ইসকন কেবল একটি ধর্মীয় সংগঠন নয় — এটি একটি আধ্যাত্মিক জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের অন্তরকে শুদ্ধ করে, সমাজে শান্তি আনে এবং ভগবানের শরণে গমনকে সহজ করে। ভক্তি, সাধনা, সংযম ও সেবার মাধ্যমে একজন মানুষ কীভাবে কৃষ্ণের প্রতি পূর্ণভাবে নিবেদিত হতে পারে — ইসকন সেই পথ দেখায়।

Kakon Barman
Uzzwal Dhali
+2