🕉 গল্প: "সঞ্জয়ের দিব্যদৃষ্টি"
প্রাচীন ভারতবর্ষ। হস্তিনাপুর রাজসভা। মহাযুদ্ধের ঘনঘটা।
অন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্র ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন—
তাঁর শতপুত্র কৌরব ও ভ্রাতুষ্পুত্র পাণ্ডবদের মধ্যে যে মহাযুদ্ধ শুরু হয়েছে কুরুক্ষেত্রে,
তিনি তা দেখতে পাচ্ছেন না, কিছু শুনতেও পাচ্ছেন না।
রাজা হলেও তিনি অসহায়।
ঠিক তখনই রাজসভায় প্রবেশ করেন এক মহাজ্ঞানী, তপস্যার জ্যোতিতে দীপ্ত—
মহর্ষি ব্যাসদেব।
তিনি বলেন,
“হে রাজন, আপনি যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে পারবেন না, কারণ আপনি অন্ধ।
কিন্তু আপনার প্রতি করুণা করে আমি আপনার সেবক সঞ্জয়-কে দিব্যদৃষ্টি দিচ্ছি।
এই চোখ দিয়ে সে দূরে বসেই সব কিছু দেখতে পাবে—যুদ্ধ, অস্ত্রের শব্দ, যোদ্ধাদের ভাবনা, এমনকি ঈশ্বরের বাণীও!”
সঞ্জয় বিনম্র হয়ে প্রণাম করল গুরু ব্যাসদেবকে।
পরম শান্তি ও এক দীপ্তিময় জ্যোতি তার চোখের সামনে ছড়িয়ে পড়ল।
হঠাৎই তার মনে হলো, সে যেন এক নতুন চোখ পেয়েছে—
যার সামনে পর্দা নেই, দূরত্ব নেই, রাত নেই, অন্ধকার নেই।
পরদিন থেকে, প্রতিদিন, সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রের সামনে বসে
বর্ণনা করতে লাগল কুরুক্ষেত্রের প্রতিটি দৃশ্য—
কোন সৈন্য কোথায় চলছে,
কে কার বিরুদ্ধে লড়ছে,
ভীষ্ম কিভাবে শয্যাশায়ী হলেন,
কর্ণের রথের চাকা কিভাবে মাটিতে আটকে গেল,
এবং একদিন—
শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের মধ্যে সেই মহান কথোপকথন,
ভগবদ্গীতার জন্মলগ্ন—
সেটাও সঞ্জয় শুনতে পেল দিব্যকর্ণে, দেখল দিব্যদৃষ্টিতে,
এবং ধৃতরাষ্ট্রকে তা জানাল।
এইভাবেই, এক দর্শক না হয়েও, সঞ্জয় হয়ে উঠলেন মহাযুদ্ধের এক প্রত্যক্ষ শ্রোতা ও বক্তা।
আর আমরা আজও কৃতজ্ঞ, কারণ তাঁর মুখেই রচিত হয়েছে মহাভারতের এক অমূল্য অধ্যায়।
🌿 নীতিশিক্ষা:
যারা শুদ্ধ হৃদয়ে গুরু ও ভগবানের আশ্রয় নেয়, তাদের জন্য অদৃশ্যও দৃশ্য হয়ে ওঠে।


