• শ্রীগুরুদেব পরম্পরা ধারায় থাকবেন, কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা হবেন, শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে আচার ও প্রচার করেন ও হরিনাম পরায়ণ হবেন।
• যারে দেখ, তারে কহ 'কৃষ্ণ -উপদেশ, আমার আজ্ঞায় গুরু হঞা তার এই দেশ। ( শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত মধ্যলীলা ৭.১২৮)
• আচার প্রচার-নামের করহ কার্য, তুমি সর্ব-গুরু, তুমি জগতের আর্য:- কিন্তু তুমি ভগবানের দিব্য নামের 'আচার ' এবং প্রচার কর দুটি কার্যই কর। তাই তুমি সকলের গুরু এই জগতের শ্রেষ্ঠ ভক্ত। শ্রীল সনাতন গোস্বামী এখানে স্পস্টভাবে জগদগুরুর সংঙ্গা বিশ্লেষন করেছেন। তাঁর যোগ্যতা হচ্ছে যে তিনি অবশ্যই শাস্ত্র নির্দেশানুসারে আচরণ করবেন এবং সেই সঙ্গে প্রচার করবেন। যিনি তা করেন না তিনি সদগুরু নন।
সদ্গুরুর প্রধান যোগ্যতা হলো, তিনি ঈশ্বর বা পরম সত্যকে জানেন এবং শিষ্যের মধ্যে সেই জ্ঞান সঞ্চারিত করতে পারেন। এছাড়াও, একজন সদ্গুরুর মধ্যে আরও কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার, যেমন- তিনি আত্ম-উপলব্ধিকারী হবেন, সত্য ও ন্যায় পথে চলবেন, এবং শিষ্যের মঙ্গল কামনায় সর্বদা নিয়োজিত থাকবেন।
সদ্গুরুর যোগ্যতা:
সত্যের জ্ঞান:
সদ্গুরু অবশ্যই সত্যকে উপলব্ধি করেছেন এবং ঈশ্বর বা পরম সত্যের জ্ঞান রাখেন।
শিষ্যের প্রতি সহানুভূতি:
তিনি শিষ্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন এবং তাদের আধ্যাত্মিক পথে পথপ্রদর্শন করবেন।
আত্ম-উপলব্ধি:
তিনি আত্ম-উপলব্ধিকারী হবেন, অর্থাৎ নিজের ভেতরের সত্যকে উপলব্ধি করেছেন।
ত্যাগী ও সংযমী:
তিনি सांसারিক মোহ থেকে মুক্ত এবং সংযমী হবেন।
জ্ঞান বিতরণ:
তিনি জ্ঞান বিতরণে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন এবং শিষ্যের অজ্ঞতা দূর করবেন।
উদাহরণস্বরূপ জীবন যাপন:
তার জীবন হবে একটি আদর্শ, যা দেখে শিষ্যরা অনুপ্রাণিত হবে।
সমালোচনা গ্রহণ ও পরিচালনা:
তিনি গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করবেন এবং তা থেকে শিক্ষা নেবেন।
অটল সমর্থন:
তিনি শিষ্যের পাশে থাকবেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সমর্থন জোগাবেন।
শাস্ত্র জ্ঞান:
তিনি ধর্মগ্রন্থ এবং আধ্যাত্মিক শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন।
সদাচারী:
তার আচরণ হবে সবার জন্য অনুকরণীয়।
ধৈর্যশীল:
শিষ্যের জিজ্ঞাসু মনকে শান্তভাবে পরিচালনা করার ধৈর্য তার থাকতে হবে।
এই বৈশিষ্ট্যগুলি একজন সদ্গুরুর মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়।


