শাস্ত্রমতে গুরুদেবের কিছু বিশেষ যোগ্যতা বা গুণ থাকা অপরিহার্য। বৈদিক, পুরাণ, ভক্তি ও তন্ত্রশাস্ত্রে গুরু সম্পর্কিত বহু নির্দেশ পাওয়া যায়। সংক্ষেপে প্রধান যোগ্যতাগুলো হলো—
গুরুদেবের যোগ্যতা (শাস্ত্রমতে)
শ্রুত্রিয় (শাস্ত্রজ্ঞ)
গুরু অবশ্যই বেদ, উপনিষদ, গীতা, ভগবত ও ভক্তিশাস্ত্রে পারদর্শী হতে হবে।
শাস্ত্র অনুযায়ী জীবনযাপন করতে হবে।
ব্রহ্মনিষ্ঠ (আত্মসাক্ষাৎকারী)
তিনি নিজে ঈশ্বরতত্ত্ব উপলব্ধি করেছেন, কেবল পড়াশোনা নয়—আত্মজ্ঞানী হতে হবে।
ভক্তিমার্গে হলে কৃষ্ণ, রাম, দেবী বা যে ইষ্ট, তাঁর প্রেমে প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে।
অপরিগ্রাহী ও লোভশূন্য
অর্থ, যশ, ভোগের লোভে যিনি আসক্ত নন, তিনি-ই সত্য গুরু।
শান্ত ও দয়ালু
শিষ্যের কল্যাণই যাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
সব জীবের প্রতি দয়া ও করুণা থাকে।
সচ্চরিত্র ও নিয়মপরায়ণ
আচার-ব্যবহারে শুদ্ধ, সত্যবাদী, নিয়ম-নিষ্ঠ।
ব্রহ্মচারী, গৃহস্থ, সন্ন্যাসী – যে অবস্থায় থাকুন, ধর্মমতে আচারনিষ্ঠ হতে হবে।
অভয়প্রদ ও সহিষ্ণু
শিষ্যকে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিতে সাহস দেন, কখনও ভীত করেন না।
সহিষ্ণুতা, ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতা গুরুদেবের গুণ।
শিষ্যের উন্নতিতে নিবেদিত
শিষ্যকে কেবল শাস্ত্র শেখান না, বরং আচার-আচরণে নিজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
শিষ্যের আধ্যাত্মিক অগ্রগতি চান, পার্থিব স্বার্থ নয়।
শাস্ত্রোক্ত বাণী উদাহরণ
মুন্ডক উপনিষদ (১.২.১২):
“তদ্বিজ্ঞানার্থং স গুরুমেবাভিগচ্ছেত্ শ্ৰোত্রিয়ং ব্রহ্মনিষ্ঠম্।”
অর্থাৎ— সত্য জ্ঞান পেতে হলে শিষ্যকে এমন গুরুর কাছে যেতে হবে যিনি শ্রুত্রিয় (শাস্ত্রজ্ঞ) ও ব্রহ্মনিষ্ঠ (আত্মজ্ঞানী)।শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ (১১.৩.২১):
“তস্মাদ্ গুরুং প্রপদ্যেত জিজ্ঞাসুঃ শ্রেয় উত্তমম্।”
অর্থাৎ— যে ব্যক্তি পরম কল্যাণ কামনা করে, তাকে এমন গুরুর কাছে যেতে হবে যিনি শাস্ত্রজ্ঞানী ও ঈশ্বরভক্ত।
👉 তাই শাস্ত্রমতে, গুরুদেব শুধুমাত্র বিদ্বান বা বাহ্যিক আচারনিষ্ঠ হলেই যথেষ্ট নয়; তাঁকে আচার, অনুশীলন, ভক্তি ও দয়ার মূর্তি হতে হয়।


