ইসকন (ISKCON) - এর প্রতিষ্ঠা ও পটভূমি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলোঃ
🌼 ইসকন (ISKCON) প্রতিষ্ঠার সাল ও স্থানঃ
প্রতিষ্ঠার সালঃ ১৯৬৬ সালের ১৩ জুলাই
প্রতিষ্ঠার স্থানঃ নিউ ইয়র্ক সিটি, USA
প্রতিষ্ঠাতাঃ অভয় চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী শ্রীল প্রভুপাদ (A.C. Bhaktivedanta Swami Srila Prabhupada)
🌼 পটভূমি ও লক্ষ্যঃ
🔹 ইসকন-এর মূল দর্শন ও উদ্দেশ্যঃ
ইসকন-এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চেতনাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া।
মূলত ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতম-এর শিক্ষার উপর ভিত্তি করে, ইসকন প্রচার করে:
শ্রীকৃষ্ণই পরম ঈশ্বর।
কৃষ্ণভক্তি ও হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে জীবের মুক্তি।
৪টি নিয়মাবলী মেনে চলা: মদ্যপান, জুয়া, মাংসাহার তথা আমিষাহার, অবৈধ যৌনাচার থেকে বিরত থাকা।
🔹 প্রেক্ষাপট:
১৯৬৫ সালে, শ্রীল প্রভুপাদ ৭০ বছরের বেশি বয়সে একাই আমেরিকায় পাড়ি দেন, জলদূত নামক একটি পণ্যবাহী জাহাজে এ চড়ে।
তাঁর সাথে ছিল শ্রীমদ্ভাগবতমের ইংরেজি অনুবাদ ও সামান্য অর্থ।
নিউ ইয়র্কে এসে তিনি ম্যাচলেস গিফট (Matchless Gifts) নামে একটি ছোট্ট দোকানঘরে শুরু করেন হরিনাম সংকীর্তন ও ভাগবত পাঠ।
এরপর ধীরে ধীরে মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে, এবং তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা হয় ISKCON (International Society for Krishna Consciousness)।
🌼 ইসকন-এর মূল কর্মকাণ্ড:
হরিনাম সংকীর্তন করা।
ভগবদ্গীতা ও শাস্ত্র শিক্ষার প্রচার।
প্রসাদ বিতরণ ও ফুড ফর লাইফ প্রজেক্ট।
ভক্তিসাধনার প্রশিক্ষণ।
শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, গোশালা ও কৃষ্ণসংস্কৃতি প্রচার।
বৈদিক সাহিত্য প্রকাশ (যেমন ভক্তিবেদান্ত বুক ট্রাস্ট)।
🌸 প্রভাব ও বিস্তার:
বর্তমানে ইসকন একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন, যার ১০০টিরও বেশি দেশে শাখা রয়েছে।
হরেকৃষ্ণ মন্ত্র:
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে;
হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে"


