ইসকন (ISKCON) বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের ব্রাহ্মণদের জীবনধারা ও আচরণ মূলত শাস্ত্রীয় বিধি-বিধান এবং ভক্তিযোগের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। তাদের জীবনযাপনের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক নিচে দেওয়া হলো:
১. জীবনযাপন ও শৃঙ্খলা
ইসকনের ব্রাহ্মণরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করেন। তারা প্রতিদিন সূর্যোদয়ের আগে (মঙ্গল আরতির সময়ে) ঘুম থেকে ওঠেন এবং জপ, ধ্যান ও শাস্ত্র পাঠের মাধ্যমে দিন শুরু করেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো 'সত্ত্ব গুণ' বা পবিত্রতা বজায় রাখা।
২. চারটি প্রধান নিয়ম (Regulative Principles) একজন ব্রাহ্মণ হিসেবে তারা কঠোরভাবে চারটি নীতি মেনে চলেন: আমিষ বর্জন: মাছ, মাংস এবং ডিম খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি পেঁয়াজ ও রসুনও তারা গ্রহণ করেন না (এগুলোকে তামসিক খাবার মনে করা হয়)। নেশা বর্জন: চা, কফি, তামাক বা যেকোনো প্রকার মাদকদ্রব্য থেকে তারা দূরে থাকেন। অবৈধ সঙ্গ বর্জন: চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষায় তারা অত্যন্ত সচেতন। জুয়া বর্জন: যেকোনো ধরণের বাজি ধরা বা অনৈতিক অর্থ উপার্জন থেকে বিরত থাকেন।
৩. শিক্ষা ও সেবা ব্রাহ্মণদের প্রধান কাজ হলো শাস্ত্র অধ্যয়ন করা এবং অন্যদের মধ্যে আধ্যাত্মিক জ্ঞান বিতরণ করা। তারা নিয়মিত ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করেন এবং মন্দিরের বিভিন্ন পূজারি সেবা বা অর্চনার দায়িত্ব পালন করেন।
৪. আচার-আচরণ তাদের আচরণ সাধারণত বিনয়ী এবং সেবা-পরায়ণ হয়ে থাকে। "তৃণাদপি সুনিচেন" (তৃণের চেয়েও নিচু বা বিনয়ী হওয়া) এই আদর্শ তারা অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। তারা সব কাজ শ্রীকৃষ্ণকে অর্পণ করার মানসিকতা রাখেন।
৫. বাহ্যিক বেশভূষা তারা সাধারণত ধুতি এবং কুর্তা পরিধান করেন। মাথায় তিলক এবং গলায় তুলসীর মালা তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যারা ব্রহ্মচারী তারা গেরুয়া এবং যারা গৃহস্থ তারা সাদা পোশাক পরেন।
ইসকনের ব্রাহ্মণরা এমন একটি জীবন গঠনের চেষ্টা করেন যা সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণভাবনা বা আধ্যাত্মিকতায় নিবেদিত। তবে ব্যক্তিভেদে আচার-আচরণে কিছুটা বৈচিত্র্য থাকতে পারে, যা মানুষের স্বাভাবিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।


