ঝুলন যাত্রায় ভক্তরা মূলত বাৎসল্য ও মধুর রসে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীমতী রাধারাণীকে নিজের পরম প্রিয়জন হিসেবে পরম যত্নে সেবা নিবেদন করেন। এই উৎসবের প্রধান সেবাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শৃঙ্গার ও অলঙ্কার সেবা
স্নান ও সুবাস: প্রতিদিন সকালে সুবাসিত জল, চন্দন ও গোলাপজল দিয়ে বিগ্রহের অভিষেক বা স্নান করানো হয়।
সাজসজ্জা: রাধা-কৃষ্ণকে নতুন রেশমি ও বর্ণিল বস্ত্র, চন্দনের প্রলেপ, মূল্যবান অলঙ্কার, কদম ও জুঁই ফুলের গয়না এবং সুসজ্জিত মুকুটে অপূর্বভাবে সাজানো হয়।
২. দোলনা সাজানো ও ঝুলন সেবা
মণ্ডপ সজ্জা: কাষ্ঠ, পিতল বা রূপার দোলনাকে সুগন্ধি ফুল, লতাপাতা এবং আলোকসজ্জায় সজ্জিত করে বৃন্দাবনের রূপ দেওয়া হয়।
দোল প্রদান: বিগ্রহকে সুসজ্জিত দোলনায় বসিয়ে ভক্তরা পরম মমতায় ও ধীর গতিতে রেশমি দড়ি ধরে দোল দেন। এটিই ঝুলন যাত্রার মূল আকর্ষনীয় সেবা।
৩. ভোগ ও নৈবেদ্য সেবা
বিশেষ রন্ধন: উৎসবের দিনগুলোতে রাধা-কৃষ্ণের প্রীতির জন্য নানা ধরনের মিষ্টান্ন, মাখন-মিছরি, রকমারি পিঠা, ক্ষীর, পায়েস ও ফলমূল দিয়ে বিশেষ রাজভোগ নিবেদন করা হয়।
প্রসাদ বিতরণ: নিবেদিত এই ভোগ পরবর্তীতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে 'মহাঐশ্বর্যময় প্রসাদ' হিসেবে বিতরণ করা হয়।
৪. কীর্তন ও নামসেবা
পদাবলী ও ভজন: দোল দেওয়ার সময় ভক্তরা বৈষ্ণব কবিদের রচিত ঝুলন লীলার পদাবলী, ভজন ও নামসংকীর্তন করেন।
নৃত্য ও আরতি: মৃদঙ্গ ও করতালের তালে রাধা-কৃষ্ণের সামনে নৃত্য-গীত করা হয় এবং সন্ধ্যায় সুবাসিত ধূপ-দীপ দিয়ে বিশেষ ঝুলন আরতি করা হয়।
৫. উপচার ও স্বাচ্ছন্দ্য সেবা
বর্ষার আর্দ্রতা ও আবহাওয়ায় বিগ্রহের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য চামর দিয়ে বাতাস করা, সুবাসিত পাখা চালনা করা এবং সুগন্ধি আতর ছিটানোর মাধ্যমে বিশেষ সেবা দেওয়া হয়।
সংক্ষেপে, ঝুলন যাত্রায় ভক্তের সেবা হলো প্রেম ও ভক্তির মাধ্যমে রাধা-কৃষ্ণকে পরম সুখে রাখার একটি বিশেষ প্রয়াস।


