শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবত এই দুটিই হলো সনাতন ধর্মের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রামাণিক গ্রন্থ। এবং এই দুটি গ্রন্থেই মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তবে গ্রন্থ দুটির উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট এবং রচনার শৈলীতে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে।
গীতা কোনো স্বতন্ত্র পুরাণ নয়; এটি মহাভারতের 'ভীষ্ম পর্বের' ২৫ থেকে ৪২ অধ্যায়ের একটি নির্বাচিত অংশ। এটি মূলত মহাভারতেরই ৭০০ শ্লোকের একটি সংক্ষিপ্ত দার্শনিক বার্তা।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক পূর্বে অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজে বিষাদগ্রস্ত অর্জুনকে উপদেশ হিসেবে গীতা প্রদান করেছিলেন।
গীতা হলো জীবন দর্শন এবং তত্ত্বজ্ঞানের ভাণ্ডার। গীতায় কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ, ধ্যানযোগ ও ভক্তিযোগের ব্যাখ্যা রয়েছে। কিভাবে জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং কর্তব্য পালন করতে হয়, তা গীতায় সরাসরি নির্দেশ করা হয়েছে।
অপরদিকে, ভাগবত হলো সনাতন ধর্মের ১৮ টি প্রধান পুরাণের অন্যতম এবং এটি একটি বিশাল একক মহাকাব্যিক রূপ। এতে ১২ টি 'স্কন্ধ' এবং প্রায় ১৮,০০০ শ্লোক রয়েছে।
তক্ষক নাগের দংশনে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে গঙ্গা তীরে উপবিষ্ট মহারাজ পরীক্ষিৎকে বেদব্যাসের পুত্র মহর্ষি শুকদেব গোস্বামী এই পুরাণটি শ্রবণ করিয়েছিলেন।
ভাগবত হলো ভক্তি ও ভগবানের দিব্য লীলা সমূহের বর্ণনামূলক গ্রন্থ। এতে সৃষ্টিতত্ত্ব, রাজাদের ইতিহাস এবং শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন অবতারের গল্প রয়েছে। বিশেষ করে এর ১০ম স্কন্ধে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম থেকে শুরু করে বৃন্দাবন, মথুরা ও দ্বারকার লীলা অত্যন্ত বিস্তারিত ও মধুরভাবে বর্ণিত হয়েছে।
বৈষ্ণব আচার্যদের মতে, গীতা হলো ভগবানের মুখ নিঃসৃত বাণী , আর ভাগবত হলো স্বয়ং ভগবানের রূপ বা স্বরূপ।


