মহারাজ পরীক্ষিৎ হলেন অর্জুনের পৌত্র বা নাতি এবং অভিমন্যু ও উত্তরার পুত্র। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শেষভাগে অশ্বত্থামা পাণ্ডব বংশ ধ্বংস করার জন্য উত্তরার গর্ভে থাকা সন্তান পরীক্ষিৎ কে লক্ষ্য করে মারাত্মক 'ব্রহ্মশীর্ষ অস্ত্র' বা ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করেন। ফলে গর্ভেই শিশুটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর অলৌকিক শক্তির মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুকে পুনর্জীবন দান করেন।
পাণ্ডবগণ যখন রাজ্য ত্যাগ করে মহাপ্রস্থানের পথে হিমালয়ের দিকে যাত্রা করেন, তখন তাঁরা রাজসিংহাসনের ভার অভিমন্যুর পুত্র পরীক্ষিৎকে অর্পন করেন। মহারাজ পরীক্ষিৎ ছিলেন অত্যন্ত প্রজাবৎসল, ধার্মিক এবং শক্তিশালী শাসক।
শাস্ত্র অনুযায়ী, তাঁর রাজত্বকালের সময়ই পৃথিবীতে 'কলিযুগ' - এর আগমন ঘটে। পরীক্ষিৎ কলিযুগকে তাঁর রাজ্যে প্রবেশ করতে বাধা দেন। পরে কলির অনুনয়ে তিনি তাঁকে জুয়াখেলা, মদপান, ব্যভিচার, স্বর্ণ এবং হিংসার মতো পাপস্থানে অবস্থানের অনুমতি দেন।
একদিন বনে শিকার করতে গিয়ে রাজা পরীক্ষিৎ প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন। তিনি শমীক ঋষির আশ্রমে গিয়ে জল পান করতে চান। কিন্তু ঋষি তখন গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকায় রাজার কথা শুনতে পাননি।
তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে রাজা পরীক্ষিৎ কলির প্রভাবে একটি মৃত সাপ ধনুকের ডগা দিয়ে তুলে ধ্যানমগ্ন ঋষির গলায় ঝুলিয়ে দেন। শমীক ঋষির পুত্র শৃঙ্গী ঋষি এ কথা জানতে পেরে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হন এবং রাজাকে অভিশাপ দেন — "আজ থেকে ঠিক সপ্তম দিনে তক্ষক নামক বিষধর নাগের দংশনে রাজার মৃত্যু হবে।"
অভিশাপের কথা জানতে পেরে মহারাজ পরীক্ষিৎ রাজ্যভার পুত্র জনমেজয়ের হাতে তুলে দেন এবং জীবনের শেষ ৭ দিন গঙ্গার তীরে অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন। মৃত্যুর পূর্বে পরম মুক্তি বা মোক্ষ লাভের উপায় জানার জন্য পৃথিবীর বহু ঋষি-মুনি সেখানে সমবেত হন। তখন সেখানে পদার্পণ করেন বেদব্যাসের পুত্র মহর্ষি শুকদেব গোস্বামী।
মহারাজ পরীক্ষিতের প্রশ্নের উত্তরে শুকদেব গোস্বামী তাঁকে টানা ৭ দিন ধরে পরমেশ্বর ভগবানের লীলা ও তত্ত্বজ্ঞান শ্রবণ করান। এই ৭ দিনের কথোপকথনই মূল 'শ্রীমদ্ভাগবত' হিসেবে পরিচিত।
সপ্তম দিনে তক্ষক নাগ এসে রাজাকে দংশন করে এবং মৃত্যুর মাধ্যমে তাঁর ভৌত শরীর বিনষ্ট হয়। কিন্তু ভাগবত শ্রবণ করে আত্মজ্ঞান লাভ করায় পরীক্ষিৎ মহারাজ মোক্ষ লাভ করেন ও ভগবদ্ধাম লাভ করেন।


