দ্বাদশ মহাজন বা বারো জন মহান আচার্য —
যাঁদের শাস্ত্রে ভক্তি, ধর্ম, ও ঈশ্বরতত্ত্বের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব হিসেবে মানা হয় —
তাঁদের নাম শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণে (৬.৩.২০–২১) বলা হয়েছেঃ
“स्वयम्भूर् नारदः शम्भुः कुमारः कपिलो मनुः ।
प्रह्लादो जनको भीष्मो बलिर्वैयासकिर्वयम् ।
द्वादशैते विजानीयान् धर्मं भागवतं भुवि ॥”
বাংলায়: “স্বয়ম্ভূ (ব্রহ্মা), নারদ, শম্ভু (শিব), চার কুমার, কপিল, মনু, প্রহ্লাদ, জনক, ভীষ্ম, বলি মহারাজ, শুকদেব গোস্বামী এবং যমরাজ—এরা দ্বাদশ মহাজন।”
দ্বাদশ মহাজনের নাম
১. স্বয়ম্ভূ ব্রহ্মা
২. নারদ মুনি
৩. শম্ভু বা শিব
৪. চতুষ্কুমারগণ (সনক, সনন্দন, সনাতন, সনৎকুমার)
৫. কপিলদেব
৬. স্বয়ম্ভূ মনু
৭. প্রহ্লাদ মহারাজ
৮. জনক মহারাজ
৯. ভীষ্মদেব
১০. বলি মহারাজ
১১. শুকদেব গোস্বামী
১২. যমরাজ
তাঁদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
১. স্বয়ম্ভূ ব্রহ্মা
প্রথম সৃষ্ট জীব ও বিশ্ব সৃষ্টির অধিপতি।
ভক্তি ও ব্রহ্ম-জ্ঞানের উৎস।
“ব্রহ্মসংহিতা”–র প্রচারক।
২. নারদ মুনি
ভক্তির সর্বোচ্চ উপদেষ্টা।
বিশ্বজুড়ে ভক্তি প্রচার করেন।
অসংখ্য সন্ত, রাজা ও ঋষিকে ভক্তিতে স্থাপন করেন।
৩. শম্ভু (শ্রীশিব)
বৈষ্ণবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব।
তত্ত্বজ্ঞানে গভীর ও ভক্তির আদর্শ গুরু।
মহাদেব হিসেবে পরিচিত।
৪. চার কুমার (সনক, সনন্দন, সনাতন, সনৎকুমার)
চির-ব্রহ্মচারী ঋষি।
জ্ঞান ও ভক্তিবাদের সূক্ষ্ম তত্ত্ব প্রচারক।
যোগ-সংহিতা ও ভক্তিবাদের গভীর দার্শনিক বিশ্লেষক।
৫. কপিলদেব
ভগবানের অবতার।
সাংখ্য দর্শন প্রচার করেন, যা ভক্তি ও জ্ঞানের সমন্বয়।
৬. স্বয়ম্ভূ মনু
মানব জাতির প্রাচীন পূর্বপুরুষ।
নীতি, ধর্ম, ও সামাজিক শৃঙ্খলার আদর্শ বিধানদাতা।
৭. প্রহ্লাদ মহারাজ
ভগবান নৃসিংহের পরম ভক্ত।
সকল পরিস্থিতিতে অটল ভক্তির উদাহরণ।
“শুদ্ধ ভক্তি”—এর মূর্ত প্রতীক।
৮. জনক মহারাজ
রাজা হয়েও মুক্ত আত্মা (বিদেহ)।
কর্ম যোগ ও ভক্তির সুষম উদাহরণ।
শ্রীরামচন্দ্রের শ্বশুর।
৯. ভীষ্মদেব
কুরুক্ষেত্রের মহাভারতীয় বীর।
গীতা তত্ত্বের গভীর বোঝাপড়া ছিল।
মৃত্যুশয্যায় শ্রীকৃষ্ণকে সামনে রেখে ধর্ম উপদেশ দেন।
১০. বলি মহারাজ
পরশুরাম ভগবান বামনের কাছে সব কিছু দান করেন।
বিনয়ের, আত্মসমর্পণের সর্বোত্তম উদাহরণ।
ভক্তদের মধ্যে অদম্য শ্রদ্ধার প্রতীক।
১১. শুকদেব গোস্বামী
শ্রীমদ্ভাগবতের প্রচারক।
জন্মগত পরম ব্রহ্মজ্ঞ।
পরীক্ষিৎ মহারাজকে ভাগবত শ্রবণ করিয়ে মুক্তির পথ দেখান।
১২. যমরাজ
ধর্মরক্ষক ও ন্যায়বিচারদাতা।
তিনিই ভাগবতধর্মের মূল শিক্ষা (দ্বাদশ মহাজনের তালিকা) বলেন।
কেন তাঁদের ‘মহাজন’ বলা হয়?
কারণ—
তারা ধর্ম, ভক্তি, ও বাস্তব আধ্যাত্মিক জীবনের পথ দেখান,
তাঁদের জীবন সরাসরি আদর্শ।
তাঁদের উপদেশ শাস্ত্রসম্মত ও সর্বজনগ্রাহ্য।
শাস্ত্রে বলা হয়েছে —
“মহাজন ইয়েন গতঃ, স পথঃ।”
অর্থাৎ মহাজনের যে পথ, সেটাই সত্য পথ।


