শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজ কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের গৃহস্থ ভক্তদের গৃহস্থাশ্রমকে ভোগ-বিলাসের ক্ষেত্র না বানিয়ে "গৃহস্থ-আশ্রমে" উন্নীত করার জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনা ও শিক্ষা প্রদান করেছেন:
গৃহকে মন্দিরে রূপান্তর করা: গৃহস্থদের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ঘরকে কেবল জাগতিক বা সংসারের কেন্দ্র না বানিয়ে একটি মন্দিরে পরিণত করা। ঘরে শ্রীশ্রী রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ বা প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করে নিয়মিত সেবা, আরতি এবং অন্ন ভোগ নিবেদন করা উচিত।
সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা: স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক হতে হবে কৃষ্ণভাবনাময় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ। স্ত্রীকে কেবল ইন্দ্রিয়তৃপ্তির মাধ্যম না ভেবে কৃষ্ণসেবায় সহধর্মিনী হিসেবে সম্মান করা এবং একে অপরকে ভক্তিপথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করা উচিত।
সন্তানদের কৃষ্ণভাবনাময় করে গড়ে তোলা: সন্তানদের কেবল বৈষয়িক শিক্ষায় শিক্ষিত না করে ছোটবেলা থেকেই হরিনাম, জপ, শাস্ত্রপাঠ ও বৈষ্ণব সদাচারের শিক্ষা দেওয়া গৃহস্থ মাতা-পিতার প্রধান দায়িত্ব।
নিয়মিত সাধনা ও হরিণাম জপ: সংসারের শত ব্যস্ততার মাঝেও নির্দিষ্ট সংখ্যায় (কমপক্ষে ১৬ মালা) জপ করা, প্রতিদিন সকালে প্রাতঃকালীন সাধনা সম্পন্ন করা এবং নিয়মিত শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ পাঠ করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
বৈষ্ণব সেবা ও প্রচার: নিজের উপার্জিত অর্থের একটি অংশ ভগবান ও বৈষ্ণবদের সেবায় (যেমন: দান, প্রচারকার্য, মন্দির নির্মাণ) যুক্ত করা গৃহস্থ ধর্মের একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গ।
বিবাদ এড়িয়ে চলা: পরিবারে বা ভক্তদের সাথে যেকোনো ধরনের বিবাদ পরিহার করে বৈষ্ণব অপরাধ থেকে বেঁচে থাকা এবং সর্বদা বিনম্র মনোভাব বজায় রেখে চলা উচিত।
সংক্ষেপে, গৃহস্থ জীবন যেন বিষয়-ভোগের ক্ষেত্র না হয়ে ভক্তি অনুশীলনের একটি আদর্শ আশ্রম হয়—এটিই ছিল শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজের মূল বার্তা।


