মহাভারতের প্রেক্ষাপটে "শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা" কে ছিলেন, তা নিয়ে পাঠকদের মধ্যে চিরকালই একটি বিতর্ক বজায় ছিল। কারণ, একেকজন যোদ্ধা একেক ক্ষেত্রে অজেয় ছিলেন। তবে মূল মহাকাব্যের বর্ণনা এবং বীরত্বের মানদণ্ডে কয়েকজনের নাম সবার উপরে উঠে আসে...
১. শ্রীকৃষ্ণ (যিনি অস্ত্র ধরেননি)
তাত্ত্বিকভাবে শ্রীকৃষ্ণই ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী। যদিও তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কোনো অস্ত্র না ধরার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর সুদর্শন চক্র এবং দিব্যশক্তি যেকোনো যোদ্ধাকে এক নিমেষে পরাজিত করার ক্ষমতা রাখত। তিনি ছিলেন যুদ্ধের প্রকৃত পরিচালক।
২. মহাবীর অর্জুন
পাণ্ডবদের মধ্যে অর্জুনকে শ্রেষ্ঠ ধরা হয় কারণ তাঁর কাছে ছিল স্বয়ং শিবের দেওয়া পাশুপত অস্ত্র এবং অগ্নির দেওয়া গাণ্ডীব ধনু। তিনি কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের প্রায় অর্ধেকের বেশি কৌরব সৈন্য একাই নিধন করেছিলেন এবং ভীষ্ম, কর্ণ ও জয়দ্রথকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
৩. মহাবীর কর্ণ
কর্ণকে অর্জুনের সমান বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগী মনে করা হয়। সহজাত কবচ-কুণ্ডল এবং পরশুরামের দেওয়া বিজয় ধনু নিয়ে তিনি অজেয় ছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ নিজেও কর্ণের দানশীলতা এবং বীরত্বের প্রশংসা করেছিলেন। তবে অভিশাপ এবং ভাগ্যের ফেরে তিনি চূড়ান্ত সময়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারেননি।
৪. পিতামহ ভীষ্ম
ভীষ্ম ছিলেন ইচ্ছামৃত্যুর বরপ্রাপ্ত। তিনি একা ১০ দিন পাণ্ডব বাহিনীকে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর রণকৌশল এবং অভিজ্ঞতা ছিল তুলনাহীন। শিখণ্ডীকে সামনে না আনলে অর্জুনের পক্ষেও ভীষ্মকে পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব ছিল।
এক নজরে অন্যান্য শক্তিশালী যোদ্ধা:
যোদ্ধাবিশেষত্বঅশ্বত্থামামহাদেবের অংশ হিসেবে জন্ম, তাঁর কাছে ছিল ব্রহ্মাস্ত্র এবং তিনি চিরঞ্জীব।ভীমগদা যুদ্ধে অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং দশ হাজার হাতির সমান বলের অধিকারী।দ্রোণাচার্যকুরু-পাণ্ডবদের গুরু, যিনি দিব্যাস্ত্রের জ্ঞানে সবার সেরা ছিলেন।বর্বরীকভীমের নাতি, যাঁর কাছে এমন তিনটি তীর ছিল যা দিয়ে তিনি এক নিমেষে পুরো যুদ্ধ শেষ করে দিতে পারতেন (তবে তিনি যুদ্ধে অংশ নেননি)।


