হিন্দু ধর্মের প্রধান এবং সর্বাচ্চ প্রামাণ্য শাস্ত্র হলো বেদ। সনাতন বা হিন্দু ধর্মের সমস্ত চিন্তাধারা, দর্শন, পূজা-পদ্ধতি ও রীতিনীতির মূল উৎস হলো বেদ।
সংস্কৃত 'বিদ' ধাতু থেকে বেদ শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ 'জ্ঞান'। বৈদিক বিশ্বাস অনুযায়ী, বেদ কোনো মানুষের রচিত নয়, তাই একে 'অপৌরুষেয়' এবং 'শ্রুতি' (যা শুনে শুনে মনে রাখা হতো) বলা হয়।
তবে সনাতন ধর্মের বিশাল সাহিত্যকে বুঝতে প্রধান শাস্ত্রগুলোকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. শ্রুতি (প্রধান ও মূল শাস্ত্র)
শ্রুতি বলতে মূলত বেদ-কেই বোঝায়। বেদ চার ভাগে বিভক্ত:
ঋগ্বেদ: সবচেয়ে প্রাচীনতম বেদ; এতে দেবতা ও প্রাকৃতিক শক্তির উদ্দেশ্যে রচিত প্রার্থনা ও স্তোত্র রয়েছে।
সামবেদ: ঋগ্বেদের গান বা সুরের রূপ, যা বৈদিক সঙ্গীত ও মন্ত্রের উৎস।
যজুর্বেদ: যজ্ঞ এবং পূজা-অর্চনার নিয়ম-কানুন ও বৈদিক অনুস্থানের নির্দেশিকা।
অথর্ববেদ: জীবনের দৈনন্দিন বিষয়, ঔষধ, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক চর্চার সংকলন।
উপনিষদ: প্রতিটি বেদের শেষ অংশকে বলা হয় উপনিষদ (বা বেদান্ত)। হিন্দু ধর্মের গভীরতম আত্মিক দর্শন ও ব্রহ্মজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো এই উপনিষদ।
২. স্মৃতি (অনুগামী ও প্রাতিষ্ঠানিক শাস্ত্র)
শ্রুতি বা বেদের মূল দর্শনকে সহজভাবে বোঝার এবং মানবসমাজে তা প্রয়োগ করার জন্য স্মৃতিশাস্ত্রগুলো রচিত হয়েছে:
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: যদিও এটি মহাভারতের অংশ, তবে গীতাকে সমস্ত বেদের সারসংক্ষেপ বলে মনে করা হয়। সর্বসাধারণের কাছে এটি হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পাঠ্য শাস্ত্র।
মহাকাব্য: রামাযাণ ও মহাভারত।
পুরাণ: ১৮টি প্রধান পুরাণ (যেমন: শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ, শিব পুরাণ ইত্যাদি), যেখানে রূপক ও গল্পের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
স্মৃতি ও দর্শনগ্রন্থ: মনুস্মৃতি, নারদস্মৃতি এবং ষড়দর্শন (সাংখ্য, যোগ, ন্যায়, বৈশেষিক, মীমাংসা, বেদান্ত)।
সংক্ষেপে
শাস্ত্রীয় মর্যাদা ও অধিকারের দিক থেকে 'বেদ' হলো হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ ও প্রধান শাস্ত্র। আর দৈনন্দিন জীবনের সঠিক দর্শন এবং আচারের দিক থেকে 'শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা' হলো সর্বাধিক পঠিত ও অনুসরণীয় প্রধান গ্রন্থ।


