হিন্দু ধর্মে শাস্ত্র বলতে সেই ধর্মগ্রন্থগুলোকে বোঝানো হয়, যেগুলো ধর্ম, নীতি, আচরণ, উপাসনা, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনদর্শন সম্পর্কে নির্দেশ দেয়। এগুলো দুই প্রধান ভাগে বিভক্ত —
🕉️ ১. শ্রুতি (ঈশ্বরপ্রদত্ত, ‘শোনা’ শাস্ত্র)
এগুলোকে ঈশ্বর কর্তৃক ঋষিদের হৃদয়ে প্রকাশিত জ্ঞান হিসেবে মানা হয়।
প্রধান শ্রুতি গ্রন্থ:
বেদ – ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ
উপনিষদ – বেদের আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক অংশ
ব্রাহ্মণ গ্রন্থ – যজ্ঞ ও আচারবিধির বিবরণ
আরণ্যক – তপস্বীদের জন্য বেদের অংশ
🕉️ ২. স্মৃতি (ঋষি-প্রণীত, ‘স্মরণীয়’ শাস্ত্র)
এগুলো বেদের উপর ভিত্তি করে রচিত, কিন্তু মানুষের ভাষায় লিপিবদ্ধ।
প্রধান স্মৃতি গ্রন্থ:
ইতিহাস –
রামায়ণ (বাল্মীকি রামায়ণ)
মহাভারত (ব্যাসদেব রচিত, যার অংশ ভগবদ্গীতা)
ধর্মশাস্ত্র –
মনুস্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি প্রভৃতি
পুরাণ –
বিষ্ণু পুরাণ, শিব পুরাণ, ভাগবত পুরাণ, দেবী ভাগবত প্রভৃতি (মোট ১৮ মহাপুরাণ)
আগম ও তন্ত্র – দেব-দেবীর উপাসনা ও মন্দিরাচারের নিয়ম
সূত্র গ্রন্থ – যোগসূত্র (পতঞ্জলি), ব্রহ্মসূত্র (ব্যাসদেব), ন্যায়সূত্র ইত্যাদি
📌 সারসংক্ষেপ টেবিল
শ্রেণিউদাহরণমূল বিষয়শ্রুতিবেদ, উপনিষদঈশ্বরপ্রদত্ত জ্ঞানস্মৃতিরামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ, স্মৃতিবেদের ব্যাখ্যা, ইতিহাস, আচরণবিধি


