🌺 কর্ম ( হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী ) 🌺
কর্ম (Karma) শব্দটি সংস্কৃত "কৃ" (√कृ) ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ করা, কাজ করা বা কার্য সম্পাদন করা।
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, মানুষের শরীর, বাক্য ও মনের মাধ্যমে সম্পাদিত প্রতিটি কাজই কর্ম। অর্থাৎ আমরা যা চিন্তা করি, যা বলি এবং যা করি—সবই কর্মের অন্তর্ভুক্ত।
📖 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (৩.৫)
"ন হি কশ্চিত্ ক্ষণমপি জাতু তিষ্ঠত্যকর্মকৃত্।"
অর্থ:
"কোনো মানুষই এক মুহূর্তও কর্ম না করে থাকতে পারে না। প্রকৃতির গুণ দ্বারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো কর্মে নিয়োজিত থাকে।"
🌿 কর্মের প্রধান তিনটি প্রকার
✅ সৎকর্ম (পুণ্য কর্ম):
যে কর্ম সত্য, ন্যায়, দয়া ও শাস্ত্রসম্মত; যা নিজের ও অন্যের কল্যাণ সাধন করে।
❌ অসৎকর্ম (পাপ কর্ম):
যে কর্ম অন্যায়, অসত্য, হিংসা বা শাস্ত্রবিরোধী; যা নিজের ও অন্যের অকল্যাণ ডেকে আনে।
🌼 নিষ্কাম কর্ম:
যে কর্ম ফলের আশা না করে, ঈশ্বরকে উৎসর্গ করে এবং নিজের কর্তব্যবোধ থেকে করা হয়।
🌸 কর্মের মূল শিক্ষা
🕉️ প্রতিটি কর্মেরই ফল আছে।
📖 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (২.৪৭)
"কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন।"
অর্থ:তোমার অধিকার শুধু কর্ম করার উপর; কর্মের ফলের উপর নয়।"
কর্ম হলো মানুষের চিন্তা, বাক্য ও কাজের সমষ্টি। হিন্দু শাস্ত্র আমাদের শিক্ষা দেয় সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও ধর্মসম্মত কর্ম করতে এবং কর্মফলের প্রতি আসক্ত না হতে।
🕉️ "যেমন কর্ম, তেমন ফল।"
এই নীতিই হিন্দু দর্শনে কর্মফল (Law of Karma) নামে পরিচিত।


