ধর্মীয় ও নীতিশাস্ত্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সকল জীবের প্রতি দয়া বা করুণা প্রদর্শনকে ধর্মীয় অনুশাসনের অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা এবং স্রষ্টার সন্তুষ্টি
প্রায় সব প্রধান ধর্মেই বিশ্বাস করা হয় যে, মহাবিশ্বের সকল জীব স্রষ্টারই সৃষ্টি। স্রষ্টার সৃষ্টিকে কষ্ট না দিয়ে ভালোবাসলে এবং তাদের প্রতি অনুকম্পা দেখালে স্রষ্টা সন্তুষ্ট হন।
ইসলাম ধর্ম: হাদিসে এসেছে, "পৃথিবীতে যা কিছু আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।"
সনাতন (হিন্দু) ধর্ম: অহিংসা ও 'সর্বভূতে দয়া' (সকল জীবের প্রতি দয়া) সনাতন ধর্মের প্রধান অঙ্গ। জীবে দয়া করাকে ঈশ্বরের সেবার সমতুল্য মনে করা হয়—"জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।"
২. অহিংসা ও আত্মশুদ্ধি
জীবের প্রতি অত্যাচার বা নির্দয়তা মানুষের মনকে কঠোর ও কলুষিত করে। অন্যদিকে, দয়া ও সহানুভূতি মানুষের আত্মাকে পবিত্র ও শান্ত করে।
বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম: বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মে 'অহিংসা পরম ধর্ম' নীতি অনুসৃত হয়। জৈন ধর্মে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবের ক্ষতি না করার ওপর অত্যন্ত জোর দেওয়া হয়, কারণ সকল জীবের মধ্যেই আত্মা বা প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে।
খ্রিষ্টধর্ম: বাইবেলে ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্টি করা প্রকৃতি ও প্রাণীকূলের যত্ন নেওয়ার এবং তাদের প্রতি সদয় থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
৩. প্রকৃতির ভারসাম্য ও একত্ববোধ
ধর্মগুলো শেখায় যে, মানুষ প্রকৃতির চেয়ে আলাদা কোনো শ্রেষ্ঠ জীব নয়, বরং বিশ্ব-সংসারের একটি অংশ মাত্র। প্রতিটি জীবেরই নিজস্ব জীবন ও উদ্দেশ্য রয়েছে। মানুষের কাজ হলো দুর্বল বা অবলা প্রাণীদের রক্ষা করা, তাদের ওপর নিপীড়ন চালানো নয়।
৪. কর্মফল (Karma) ও আখিরাতের বিচার
বেশিরভাগ ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, ভালো বা মন্দ কাজের ফল মানুষকে ভোগ করতেই হবে। কোনো নির্দোষ জীবকে কষ্ট দিলে তার জন্য অনুশোচনা বা শাস্তি পেতে হয়, আর পশুপাখির তৃষ্ণা মেটানো বা তাদের সেবার বিনিময়ে পরম পুণ্য ও মুক্তি লাভ করা যায়।


