ভক্তি শব্দের অর্থ হলো পরমেশ্বরের প্রতি অনুরাগ, গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং আত্মনিবেদন। সাধারণ কথায়, কোনো রকম স্বার্থ বা শর্ত ছাড়া ভগবানকে প্রেমপূর্বক সেবাই হলো ভক্তি।
সনাতন ধর্মে ও বৈষ্ণব দর্শনে ভক্তিকে ঈশ্বর লাভের সবচেয়ে সহজ ও মধুর পথ মনে করা হয়।
ভক্তির মূল লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য
অহেতুকী ও অপ্রতিহতা: প্রকৃত ভক্তি কোনো জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার ওপর নির্ভর করে না (অহেতুকী) এবং কোনো বাধা-বিপত্তিতে দমে যায় না (অপ্রতিহতা)।
আত্মনিবেদন: নিজের অহংকার ও ইচ্ছা ভগবানের শ্রীচরণে সমর্পণ করে দেওয়া।
ভগবান ও জীবের সম্পর্ক: জীবাত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলাই ভক্তির মূল উদ্দেশ্য।
শ্রীমদ্ভাগবতে 'নবধা ভক্তি' (৯টি অঙ্গ)
শ্রীমদ্ভাগবত-এ ভক্তির ৯টি উপায়ের কথা বলা হয়েছে, যাকে 'নবধা ভক্তি' বলা হয়:
১. শ্রবণ: ভগবানের নাম, রূপ, গুণ ও লীলাকথা শ্রবণ করা।
২. কীর্তন: ভগবানের নাম বা গুণগান উচ্চস্বরে জপ ও গাওয়া।
৩. স্মরণ: মনে মনে নিরন্তর ভগবানের চিন্তা ও ধ্যান করা।
৪. পাদসেবন: ভগবানের শ্রীচরণে সেবা করা।
৫. অর্চন: বিধিসম্মতভাবে পুজো ও আরতি করা।
৬. বন্দন: হৃদয়ের গভীর থেকে স্তব-স্তুতি বা প্রণাম করা।
৭. দাস্য: নিজেকে ভগবানের সেবক বা দাস মনে করে সেবা করা।
৮. সখ্য: ভগবানকে নিজের অভিন্ন বন্ধু বা সখা মনে করা।
৯. আত্মনিবেদন: সম্পূর্ণ দেহ, মন ও আত্মা ভগবানের কাছে সঁপে দেওয়া।
ভক্তির প্রকারভেদ
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও রূপ গোস্বামী ভক্তিকে মূলত তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন:


