ভগবান কেনো এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন?
1 answers
17 views
Dip Kar
+1
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দার্শনিকদের মতে, ভগবানের এই জগৎ সৃষ্টির পেছনে কোনো জাগতিক স্বার্থ বা বাধ্যবাধকতা নেই, কারণ তিনি ‘পূর্ণ’ এবং ‘আত্মারাম’ (যিনি নিজের মধ্যেই নিজে আনন্দিত)। তবে শাস্ত্র ও মহাজনদের বাণী অনুযায়ী, এই সৃষ্টিলীলার পেছনে গভীর কিছু কারণ রয়েছে।

নিচে প্রধান কারণগুলো আলোচনা করা হলো:

১. ভগবানের আনন্দ প্রকাশ ও 'লীলা'

বেদান্ত সূত্রে বলা হয়েছে—"লোকবত্তু লীলাকৈবল্যম্"। অর্থাৎ, ভগবানের এই সৃষ্টি এক অনন্য ‘লীলা’ বা আনন্দ-খেলা।

  • যেমন একজন চিত্রশিল্পী কোনো পাওয়ার আশা না করে কেবল আনন্দের জন্য ছবি আঁকেন, বা কোনো লেখক গল্প লেখেন—ভগবানও ঠিক তেমনি তাঁর অসীম আনন্দ ও শক্তিকে বৈচিত্র্যের মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন। এটি তাঁর স্বভাবজাত আনন্দ প্রকাশ।

২. জীবাত্মার ইচ্ছা পূরণ (ভোগ ও মুক্তি)

সৃষ্টির আদিতে প্রলয়কালে সমস্ত জীবাত্মা ভগবানের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। জীবের পূর্বজন্মের কর্মফল এবং জড় জগৎকে ভোগ করার যে সুপ্ত ইচ্ছা বা বাসনা থাকে, তা পূরণের সুযোগ দিতেই ভগবান আবার সৃষ্টিজগৎ উন্মুক্ত করেন।

  • ভোগের সুযোগ: জীব যাতে তার কর্মফল অনুযায়ী এই জগতে নানা অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে।

  • মুক্তির সুযোগ: এই জগতের অনিত্যতা বুঝতে পেরে জীব যাতে পুনরায় ভগবানের কাছে ফিরে যাওয়ার (মোক্ষ বা মুক্তি লাভের) চেষ্টা করতে পারে। জগৎটা আসলে একটা পাঠশালার মতো, যেখানে জীবাত্মা শিক্ষা লাভ করে।

৩. প্রেমের আদান-প্রদান

ভগবানের একটি পরম নাম ‘রসো বৈ সঃ’—অর্থাৎ তিনি সমস্ত রসের বা আনন্দের উৎস। প্রেমের পূর্ণতা কখনো একাকী উপভোগ করা যায় না, তার জন্য অন্য কারোর প্রয়োজন হয়। ভগবান তাঁর সঙ্গে প্রেমের আদান-প্রদান করার জন্যই অসংখ্য জীব এবং এই বৈচিত্র্যময় সৃষ্টি করেছেন, যাতে জীব ভক্তি ও প্রেমের মাধ্যমে তাঁর সাথে যুক্ত হতে পারে।

৪. করুণা বা দয়া প্রকাশ

শ্রীল রূপ গোস্বামী ও অন্যান্য আচার্যদের মতে, সৃষ্টির অন্যতম বড় কারণ ভগবানের পরম ‘করুণা’। জড় জগতে বদ্ধ হয়ে থাকা জীবাত্মাদের প্রতি দয়াপরশ হয়েই তিনি এই জগৎ এবং বেদ-উপনিষদের মতো শাস্ত্র প্রদান করেছেন। উদ্দেশ্য হলো, জীব যেন এই সৃষ্টির নিয়ম ও শাস্ত্রের জ্ঞান খাটিয়ে নিজের আধ্যাত্মিক উন্নতি করতে পারে এবং মায়ার বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারে।

সংক্ষেপে: ভগবান এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন তাঁর আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে, জীবের কর্মফল ও ইচ্ছা পূরণের ক্ষেত্র হিসেবে এবং সর্বোপরি জীবের প্রতি তাঁর অসীম করুণা ও প্রেমের কারণে—যাতে আমরা এই সৃষ্টির মাঝে থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার তাঁর পরম ধামে ফিরে যেতে পারি।