মহামায়া কে?
1 answers
18 views
Uzzwal Dhali
Dip Kar
+2
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

মহামায়া হলেন সনাতন ধর্মের সেই পরমেশ্বরী আদ্যাশক্তি, যিনি এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি এবং লয়ের মূল কারণ। সহজ কথায়, তিনি পরমাত্মা বা পরমেশ্বরের সেই 'শক্তি' যা দিয়ে তিনি এই জগতরূপী রঙ্গমঞ্চ পরিচালনা করেন।

মহামায়াকে মূলত তিনটি প্রধান দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয় —

১. দেবী হিসেবে (দুর্গা বা চণ্ডী)

পৌরাণিক শাস্ত্র অনুযায়ী, মহামায়া হলেন স্বয়ং দেবী দুর্গা। শ্রীশ্রীচণ্ডীতে তাঁকে 'দেবী মহামায়া' বলে সম্বোধন করা হয়েছে।

অসুর বিনাশকারিনী: যখন মহিষাসুর বা অন্যান্য দানবদের অত্যাচারে সৃষ্টি সংকটে পড়ে, তখন সকল দেবতার সম্মিলিত তেজ থেকে মহামায়া আবির্ভূত হন।

মহামায়ার রূপ: তিনি যেমন পরম করুণাময়ী জননী, তেমনি দুষ্টের দমনে তিনি সংহারমূর্তি ধারণ করেন। তিনি জ্ঞান, বুদ্ধি, নিদ্রা, ক্ষুধা এবং শক্তিরূপে সকল জীবের মধ্যে অবস্থান করেন।

২. দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি (অবিদ্যা ও ভ্রান্তি)

দর্শনের ভাষায় মহামায়া হলো সেই শক্তি যা সত্যকে আড়াল করে রাখে।

ভ্রান্তি তৈরি: তাঁর প্রভাবেই আমরা এই নশ্বর এবং পরিবর্তনশীল জগতকে 'শাশ্বত' বা 'চিরস্থায়ী' বলে মনে করি। আমরা যে নিজেদের শরীরকে 'আমি' বলে ভাবি এবং জাগতিক ধন-সম্পদে আসক্ত হই, এটিই মহামায়ার খেলা।

বন্ধনের কারণ: তিনি জীবের মনে অহংকার এবং মোহ সৃষ্টি করেন, যার ফলে জীব জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ থাকে।

৩. যোগমায়া বনাম মহামায়া

মহামায়ার দুটি বিশেষ রূপ রয়েছে:

মহামায়া (অবিদ্যা মায়া): যা সাধারণ মানুষকে মোহাচ্ছন্ন করে এবং জাগতিক বন্ধনে আটকে রাখে।

যোগমায়া (বিদ্যা মায়া): এটি ভগবানের বিশেষ শক্তি যা ভক্তদের আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রদান করে এবং মুক্তি বা মোক্ষ লাভে সাহায্য করে। শ্রীকৃষ্ণের লীলায় যোগমায়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (যেমন: কৃষ্ণের জন্মের সময় যশোদার কন্যা রূপে জন্ম নেওয়া)।


কেন তাঁকে 'মহা'মায়া বলা হয়?

মায়া মানে যা সাধারণ মোহাচ্ছন্ন করে, কিন্তু তিনি 'মহা'মায়া কারণ ব্রহ্মার নিদ্রা থেকে শুরু করে মহাবিশ্বের প্রতিটি অণু-পরমাণু তাঁর শক্তির অধীন। এমনকি স্বয়ং ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শিবও তাঁর মায়া শক্তির প্রভাব অনুভব করেন।

সংক্ষেপে তাঁর ভূমিকা:

১. সৃষ্টির কারিগর: তিনি ছাড়া পরম ব্রহ্মের কোনো সৃষ্টি করার সামর্থ্য নেই (যেমন শক্তি ছাড়া আগুনের দহন ক্ষমতা থাকে না)।

২. পরীক্ষক: তিনি জীবকে মায়ার জালে ফেলে পরীক্ষা করেন।

৩. মুক্তির পথ: যখন কোনো ভক্ত সব ছেড়ে তাঁর শরণাপন্ন হন, তখন তিনিই প্রসন্ন হয়ে মায়ার আবরণ সরিয়ে দেন এবং পরম সত্য বা ভগবানের দর্শন করিয়ে দেন।

এক কথায়, মহামায়া হলেন এই মহাজাগতিক নাটকের সেই সূত্রধর, যিনি পর্দার আড়াল থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর কৃপা ছাড়া এই 'মায়ার জগত' থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।

Uzzwal Dhali
+1