প্রভুপাদ (Prabhupada) শব্দটি অত্যন্ত সম্মানসূচক একটি উপাধি, যার আক্ষরিক অর্থ হলো— "যিনি ভগবানের পাদপদ্মে আশ্রিত" বা "যাঁর চরণে প্রভুরা (প্রভুরা বলতে এখানে অন্য গুরুদের বোঝানো হয়েছে) আশ্রয় নেন।"
আধুনিক যুগে এই নামে মূলত দুইজন মহান বৈষ্ণব আচার্যকে বোঝানো হয়। তবে বিশ্বজুড়ে 'প্রভুপাদ' বললে সাধারণত শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদকেই বেশি বোঝায়। নিচে তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
১. শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ (১৮৯৬-১৯৭৭)
তিনি হলেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকন (ISKCON)-এর প্রতিষ্ঠাতা আচার্য। সারা বিশ্বে হরে কৃষ্ণ আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
প্রচার: তিনি ৭০ বছর বয়সে আমেরিকা পাড়ি জমান এবং অত্যন্ত প্রতিকূলতার মধ্যে কৃষ্ণভক্তি প্রচার শুরু করেন। মাত্র ১০-১১ বছরের মধ্যে তিনি সারা বিশ্বে ১০৮টিরও বেশি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
সাহিত্য: তিনি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত এবং শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রগুলোর ইংরেজি অনুবাদ ও ব্যাখ্যা (ভক্তিবেদান্ত তাৎপর্য) লিখে গেছেন, যা আজ বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
অবদান: পাশ্চাত্যের মানুষকে নিরামিষ আহার, সংকীর্তন এবং তিলক-ধুতি-শাড়ির মতো ভারতীয় ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পেছনে তাঁর অবদান অনবদ্য।
২. শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদ (১৮৭৪-১৯৩৭)
তিনি ছিলেন শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের দীক্ষাগুরু। তিনিও ভক্তিমার্গে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন আচার্য ছিলেন।
অবদান: তিনি 'গৌড়ীয় মঠ' প্রতিষ্ঠা করেন এবং বৈষ্ণব ধর্মকে অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিকভাবে উপস্থাপন করেন।
সিংহগুরু: তাঁর অদম্য সাহস এবং শাস্ত্রীয় তর্কের নিপুণতার জন্য তাঁকে 'সিংহগুরু' বলা হতো। তিনি আধুনিক যুগে ভক্তি প্রচারের ভিত্তি স্থাপন করে গিয়েছিলেন।
৩. প্রাচীন অর্থে 'প্রভুপাদ'
ঐতিহাসিকভাবে, এই উপাধিটি প্রাচীনকালে অনেক মহান আচার্যদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। যেমন— শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রধান ছয় গোস্বামীর একজন, শ্রীল রূপ গোস্বামী এবং শ্রীল সনাতন গোস্বামীকেও পরম শ্রদ্ধায় 'প্রভুপাদ' বলা হতো।
আপনি যদি বর্তমান সময়ের কোনো কৃষ্ণভক্ত বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে কথা বলেন, তবে শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদকেই (ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা) নির্দেশ করা হচ্ছে। তিনি আধুনিক পৃথিবীর মানুষের কাছে ভক্তিযোগের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান দূত।


