নবকলেবর হলো পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সবচেয়ে রহস্যময় এবং পবিত্র উৎসব। সাধারণ অর্থে 'নবকলেবর' মানে হলো 'নতুন শরীর ধারণ'। জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার বিগ্রহ কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর পুরনো বিগ্রহ বদলে নতুন বিগ্রহ স্থাপন করা হয়।
এই উৎসবের প্রধান এবং রহস্যময় দিকগুলো হলো —
সময়কাল: এটি প্রতি বছর হয় না। সাধারণত ৮, ১২ বা ১৯ বছর অন্তর যে বছর আষাঢ় মাস দুটি হয় (জোড়া আষাঢ়), সেই বছর নবকলেবর পালিত হয়।
দারুব্রহ্ম অনুসন্ধান: মন্দিরের সেবায়েতরা (দৈত্যপতি) স্বপ্নদেশের মাধ্যমে বিশেষ লক্ষণযুক্ত নিম গাছ খুঁজে বের করেন। এই গাছে শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্মের চিহ্ন থাকা বাধ্যতামূলক এবং গাছের নিচে সাপের গর্ত থাকতে হয়।
গোপন আচার (ব্রহ্ম পরিবর্তন): এটি নবকলেবরের সবচেয়ে রহস্যময় অংশ। গভীর রাতে পুরো পুরী শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। মন্দিরের চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে ফেলা হয় এবং প্রধান সেবায়েত চোখে পট্টি ও হাতে কাপড় বেঁধে পুরনো বিগ্রহের ভেতর থেকে 'ব্রহ্ম পদার্থ' বের করে নতুন বিগ্রহে স্থাপন করেন।
ব্রহ্ম রহস্য: এই ব্রহ্ম পদার্থটি আসলে কী, তা আজও এক রহস্য। বলা হয়, এটি শ্রীকৃষ্ণের অক্ষয় হৃদপিণ্ড। যে সেবায়েত এটি স্থানান্তর করেন, তিনিও কখনো এটি চোখে দেখেননি বা স্পর্শ করেননি (কাপড়ের কারণে)।
পুরনো বিগ্রহের সমাধি: নতুন বিগ্রহ স্থাপনের পর পুরনো বিগ্রহগুলোকে মন্দিরের ভেতরেই 'কৈলি বৈকুণ্ঠ' নামক স্থানে শাস্ত্রীয় মতে সমাধি দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর নতুন বিগ্রহগুলো ভক্তদের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং পুনরায় রথযাত্রার আয়োজন করা হয়।


