মহাভারত অনুসারে, পাণ্ডবদের জন্মও কৌরবদের মতোই বেশ অলৌকিক। মহারাজ পাণ্ডু এক ঋষির অভিশাপের কারণে নিজে সন্তান উৎপাদনে অক্ষম ছিলেন। তাই তাঁর স্ত্রী কুন্তী এবং মাদ্রী দেবতাদের আশীর্বাদে সন্তানদের জন্ম দেন।
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ঋষি কিন্দমের অভিশাপ
মহারাজ পাণ্ডু একবার বনে শিকার করতে গিয়ে মৃগ রূপধারী ঋষি কিন্দম ও তাঁর স্ত্রীকে ভুলবশত তীরবিদ্ধ করেন। মৃত্যুর আগে ঋষি পাণ্ডুকে অভিশাপ দেন যে, পাণ্ডু যদি কখনো স্ত্রীর সাথে মিলিত হন, তবে তাঁর মৃত্যু হবে। এই অভিশাপের কারণে পাণ্ডু সিংহাসন ত্যাগ করে বনে চলে যান।
২. কুন্তীর সেই গোপন মন্ত্র
পাণ্ডু যখন সন্তানহীনতার দুঃখে ভুগছিলেন, তখন কুন্তী তাঁকে তাঁর বাল্যকালের একটি ঘটনার কথা জানান। ঋষি দুর্বাসা কুন্তীর সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে একটি বিশেষ বশীকরণ মন্ত্র শিখিয়েছিলেন। এই মন্ত্র দিয়ে কুন্তী যে দেবতাকে স্মরণ করবেন, সেই দেবতা এসে তাঁকে সন্তান দান করবেন।
৩. তিন পাণ্ডবের জন্ম (মাতা কুন্তী)
পাণ্ডুর অনুমতি নিয়ে কুন্তী একে একে তিন দেবতাকে আহ্বান করেন:
যুধিষ্ঠির: কুন্তী ধর্মরাজকে (যমরাজ) স্মরণ করেন। ধর্মের আশীর্বাদে জন্ম নেন ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির, যিনি সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক।
ভীম: এরপর তিনি পবন দেবকে (বায়ু) আহ্বান করেন। তাঁর আশীর্বাদে অসীম শক্তিশালী ভীমের জন্ম হয়।
অর্জুন: সবশেষে তিনি দেবরাজ ইন্দ্রকে স্মরণ করেন। ইন্দ্রের আশীর্বাদে জন্ম নেন মহাবীর অর্জুন।
৪. দুই পাণ্ডবের জন্ম (মাতা মাদ্রী)
পাণ্ডুর দ্বিতীয় স্ত্রী মাদ্রী সন্তানহীন হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করলে কুন্তী তাঁকে সেই মন্ত্রটি একবার ব্যবহারের সুযোগ দেন। মাদ্রী তখন যমজ দুই দেবতা অশ্বিনীকুমারদ্বয়কে স্মরণ করেন।
অশ্বিনীকুমারদের আশীর্বাদে মাদ্রীর গর্ভে জন্ম নেন দুই যমজ ভাই— নকুল ও সহদেব।
একটি বিশেষ তথ্য: কর্ণের জন্ম
কুন্তী এই মন্ত্রটি বিয়ের আগে কৌতুহলবশত একবার পরীক্ষা করেছিলেন এবং সূর্য দেবকে আহ্বান করেছিলেন। তখন কর্ণের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে কুন্তী কর্ণকে ত্যাগ করেছিলেন, তাই কর্ণ পাণ্ডব হিসেবে পরিচিতি পাননি।
এই পঞ্চপাণ্ডব তাদের গুণ ও শক্তির মাধ্যমে পরবর্তীতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জয়ী হয়ে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।


