মতুয়াদের দ্বাদশ আজ্ঞা হলো শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর এর দেওয়া ১২টি মূল নীতি, যা তাঁদের জীবনযাপনের পথপ্রদর্শক; এর মধ্যে প্রধান হলো সদা সত্য কথা বলা, পিতা-মাতা ও গুরুকে ভক্তি করা, জগতের সকল জীবকে ভালোবাসা, পরনারীকে মাতৃজ্ঞান করা, পরদুঃখে দুঃখী হওয়া ও সহযোগিতা করা, গার্হস্থ্য ধর্ম পালন করা (সদগৃহে থেকে সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন) এবং কামকে বশে রেখে নাম (হরি নাম) করা ইত্যাদি, যা মনুষ্যত্ব ও দেবত্বের বিকাশ ঘটায়।
মতুয়াদের দ্বাদশ আজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো
১. সদা সত্য কথা বলিবে
সদা সত্য কথা বলা: সর্বদা সত্য কথা বলবে এবং সৎ পথে চলবে।
২. পরস্ত্রীকে মাতৃজ্ঞান করিবে
পরনারী মাতৃতুল্য: পরনারীকে জননী বা মাতৃরূপে দেখবে।
৩. পিতা মাতাকে ভক্তি করিবে
পিতা-মাতা ও গুরুকে ভক্তি: পিতা-মাতা ও গুরুকে দেবতাজ্ঞানে ভক্তি করবে।
৪. চিরত্র পবিত্র ব্যক্তির প্রতি জাতিভেদ করিবে না
৫. কাহারো ধর্ম নিন্দা করিবে না
৬. বাহ্য অঙ্গে সাধু সাজ ত্যাগ করিবে
অহংকার ত্যাগ: মিথ্যা সাধু সাজা বা বাহ্যিক আড়ম্বর করবে না।
৭. ষড় রিপুর নিকট হতে সাবধান থাকিবে
ষড়রিপু নিয়ন্ত্রণ: কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য—এই ছয় রিপুকে বশে রাখবে।
৮. হাতে কাজ মুখে নাম করিবে
হাতে কাম, মুখে নাম: হাতে কাজ করবে এবং মুখে সর্বদা ঈশ্বরের নাম (হরি নাম) জপ করবে।
৯. প্রতি ঘরে হরি মন্দির প্রতিষ্ঠা করিবে
১০. দৈনিক প্রার্থনা করিবে
১১. ঈশ্বরে আত্মদান করিবে
১২. জগৎকে ভালোবাসিবে
জগতের জীবে প্রেম: সকল জীবের প্রতি প্রেম আচরণ করবে এবং তাদের থেকে শিক্ষা নেবে।
এই আজ্ঞাগুলি মূলত আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উন্নতির জন্য এবং মতুয়া সমাজের মৌলিক আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মতুয়া দর্শনকে সমৃদ্ধ করেছে।


