অবতার শব্দটি এসেছে সংস্কৃত "অৱ" (নিচে) এবং "তরণ" (অবতরণ করা) থেকে।
আক্ষরিক অর্থ হলো — উচ্চ স্থান থেকে নীচে অবতরণ।
ধর্মীয় দৃষ্টিতে অবতার বলতে বোঝায় —
পরমেশ্বর ভগবান যখন ভক্তদের রক্ষা, দুষ্টদের বিনাশ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য স্বয়ং এই পৃথিবীতে বা ভৌতিক জগতে অবতীর্ণ হন, তখন তাঁর সেই প্রকাশকে অবতার বলা হয়।
শাস্ত্রীয় সংজ্ঞা (শ্রীমদ্ভাগবত ১.৩.২৮ অনুযায়ী)
"এতে চাম্শ কালঃ পুঙ্সঃ কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্"
— ভগবান নানারূপে অবতার হয়ে আসেন, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং মূল ভগবান।
অবতারের উদ্দেশ্য
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন —
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥
— শ্রীমদ্ভগবদগীতা, ৪র্থ অধ্যায়, ৭নং শ্লোক
অনুবাদঃ হে ভারত, যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই।
অবতারের ধরন
শাস্ত্রে অবতার অনেক প্রকারে বিভক্ত, যেমন:
লীলাবতার — বিশেষ লীলা প্রদর্শনের জন্য (যেমন: রামচন্দ্র, নৃসিংহ, বরাহ)
গুণাবতার — তিন গুণের (সত্ত্ব, রজ, তম) পরিচালনার জন্য (যেমন: ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব)
যুগাবতার — প্রতিটি যুগে ধর্মপ্রতিষ্ঠার জন্য (যেমন: কলিযুগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু)
শক্তি-আবেশ অবতার — ভগবানের শক্তি দ্বারা প্রেরিত বিশেষ ব্যক্তিত্ব (যেমন: নারদ মুনি, প্রহ্লাদ)
সংক্ষেপে, অবতার মানে ঈশ্বরের করুণাময় অবতরণ, যা ভক্তদের মুক্তি, অধর্মের দমন, এবং ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ঘটে।


