ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ইহলোক ত্যাগের ঘটনাটি মহাভারতের শেষ পর্যায়ে (বিশেষত মৌসলা পর্বে) এবং ভাগবত পুরাণে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই ঘটনাকে বলা হয় “শ্রীকৃষ্ণের স্বর্গারোহণ” বা “শ্রীকৃষ্ণের ইহলোক ত্যাগ”।
📜 ঘটনাক্রম অনুযায়ী সারাংশঃ
১. যাদব বংশের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ধ্বংসঃ
দ্বারকাবাসীদের মধ্যে অহংকার, ভোগ-বিলাস এবং ধর্ম থেকে বিচ্যুতি দেখা দেয়। শ্রীকৃষ্ণ নিজেই জানতেন যে যাদব বংশের এই উচ্ছৃঙ্খলতা ভবিষ্যতে বিপর্যয় ডেকে আনবে, তাই তিনি তা ঈশ্বরীয় ইচ্ছায় ধ্বংসের পথে পরিচালিত করেন।
একবার ঋষিগণকে ঠাট্টা করে যাদব যুবকেরা একটি হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যার ফলে ঋষিরা তাদের অভিশাপ দেন—যাদব বংশ একে অপরকে হত্যা করে ধ্বংস হবে। এই অভিশাপ অবশেষে বাস্তব হয়। যাদবরা কুস্তির মতো খেলায় মত্ত হয়ে একে অপরকে হত্যা করে ফেলেন, যার ফলে পুরো যাদব বংশ ধ্বংস হয়।
২. শ্রীকৃষ্ণের বনগমন ও ধ্যানঃ
এরপর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সমস্ত দায়িত্ব সমাপ্ত করে, দ্বারকা নগর ডুবে যাওয়ার পূর্বে সমস্ত নারীদের ও বেঁচে থাকা লোকজনকে ইন্দ্রপ্রস্থে পাঠিয়ে দেন। নিজে একাকী প্রভাস ক্ষেত্রের জঙ্গলে গমন করেন এবং একটি গাছের নিচে ধ্যানস্থ হন।
৩. জরা নামক শিকারির তীরঃ
একজন শিকারি জরা, দূর থেকে শ্রীকৃষ্ণের পদ্মসদৃশ পদদেশ দেখে ভুলবশত হরিণ ভেবে তীর ছোঁড়েন। সেই তীর শ্রীকৃষ্ণের পায়ে বিদ্ধ হয়।
এরপর জরা ভগবানকে চিনে ফেলেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে এটাই তাঁর ইচ্ছা ও পূর্বনির্ধারিত কর্মফল।
৪. দেহ ত্যাগ ও স্বর্গারোহণঃ
এরপর শ্রীকৃষ্ণ ধ্যানমগ্ন অবস্থায় তাঁর দিব্য শরীর ত্যাগ করেন এবং তাঁর স্বর্গীয় ধাম, অর্থাৎ গোলোক বৃন্দাবন বা পরমধাম-এ গমন করেন।
🕉️ এই ঘটনাটির গভীর তাৎপর্যঃ
এটি শুধুমাত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ইহলোক ত্যাগ নয়, বরং দ্বাপর যুগের অবসান এবং কলিযুগের সূচনার নির্দেশও।
তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর লীলা সংক্ষেপ করেন, কারণ যাদব বংশের মিশন পূর্ণ হয়েছিল।
তাঁর দেহ ত্যাগও একটি দিব্য লীলা, যা মানুষের জন্ম-মৃত্যু থেকে একেবারেই আলাদা।
🔖 গ্রন্থসূত্রঃ
মহাভারত, মৌসলা পর্ব
শ্রীমদ্ভাগবতম (স্কন্ধ ১১, অধ্যায় ৩০-৩১)
বিষ্ণু পুরাণ


