ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবন ত্যাগ করার পর তাঁর লীলা এক নতুন ধাপে প্রবেশ করে। তিনি মথুরা, পরে দ্বারকায় অবস্থান করেন। আর গোপীরা, বিশেষ করে শ্রীমতী রাধারাণী, কৃষ্ণের বিচ্ছেদে দেহে না থেকেও চিত্তে সদা কৃষ্ণলীন থাকেন।
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবন ত্যাগের পর কোথায় ছিলেন?
মথুরা (১১ বছর ৭ মাস পর)
কংস বধের জন্য কৃষ্ণ ও বলরাম মথুরা গমন করেন।
কংস বধের পর তাঁরা সংদীপনী মুনির আশ্রমে গুরুসংস্কার লাভ করেন।
এরপর মথুরাতেই কিছুদিন রাজকার্য ও লীলা সম্পাদন করেন।
দ্বারকা
কংস বধের পর জরাসন্ধ ১৭ বার আক্রমণ করে।
শেষপর্যন্ত কৃষ্ণ যাদবদের রক্ষার জন্য সমুদ্রের মাঝে দ্বারকা নগরী স্থাপন করে স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাস শুরু করেন।
দ্বারকায় তিনি ১৬,১০৮ রাণী ও ১০ সন্তানসহ রাজলীলায় প্রবেশ করেন।
💔 কৃষ্ণ-বিরহে গোপী ও রাধার অবস্থা
গোপীরা ছিলেন কৃষ্ণ-প্রেমের শিখর।
১. রাধারাণীর বিরহ-ভাবঃ
রাধারাণী কৃষ্ণের প্রতি এমন গভীর প্রেম ধারণ করেন, যা বিরহে আরও তীব্র ও বিশুদ্ধ হয়ে ওঠে।
তিনি এক মুহূর্তও কৃষ্ণকে ভুলে থাকেন না। তাঁর সমস্ত দিনরাত্রি চলে যায় কৃষ্ণের স্মরণ ও তাঁর প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষায়।
তাঁর এই বিরহই পরে ‘বিপ্রলম্ভ-রস’ নামে শ্রেষ্ঠতম ভক্তিরূপে পরিচিত হয়।
২. গোপীদের অবস্থাও ছিল অনুরূপঃ
গোপীরা গৃহে থেকেও মানসিকভাবে বৃন্দাবনের সেই লীলাস্থলে বিদ্যমান থাকেন যেখানে কৃষ্ণ লীলা করতেন।
তাঁরা একে অপরকে কৃষ্ণের কীর্তন, স্মরণ, তাঁর আচরণ ও কথাবার্তা স্মরণ করিয়ে দিতেন।
ভাগবত পুরাণ ও উজ্জ্বলনীলামণি-তে এই বিরহ ও ভক্তির গভীরতা অসাধারণভাবে বর্ণিত হয়েছে।
শাস্ত্রোক্ত শ্লোকঃ
"নৈব স্মরামি নবস্য জানিপি"
“আমি নিজের অস্তিত্ব ভুলে গেছি, শুধু কৃষ্ণকথার মধ্যেই বেঁচে আছি।”
🌺 উপসংহারঃ
🪔 কৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে চলে গেলেও গোপীদের হৃদয় থেকে কোনোদিনও যাননি।
🪔 রাধারাণী ও গোপীরা কৃষ্ণ-বিরহে সর্বোচ্চ প্রেমাবিষ্ট ভক্তিরূপ ধারণ করেন — যা গোবিন্দের হৃদয়কেও আকর্ষণ করে রাখে।
💬 শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেন...
"ন পরেয়াহং ন নিবোধয়ামি, সাধুং কদাচিত..."
“আমি কখনোই এমন গোপীভক্তদের ঋণ শোধ করতে পারব না।”


